স্পোর্টস ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এবারের আসরে টস জিতে রান তাড়া করে জয়ের প্রবণতা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল। তবে টানা দুই দিনে বড় লক্ষ্য রক্ষা করে জয় তুলে নেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ফিরেছে টুর্নামেন্টে। সেই ধারাবাহিকতায় ছয় ম্যাচের হারের বৃত্ত ভেঙে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি)। শক্তিশালী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (আরসিবি) ৯ রানে হারিয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল দলটি।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ২০ ওভারের বদলে ১৯ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও ব্যাট হাতে দারুণ আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছে লখনউ। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ছিলেন দলের বড় ভরসা। শুরু থেকেই আরসিবির বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ঝকঝকে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মার্শের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে যায়।
শেষ দিকে অধিনায়ক রিশভ পান্ত মাত্র ১০ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের রান আরও বাড়িয়ে দেন। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে লখনউ নির্ধারিত ১৯ ওভারে তোলে ২০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আরসিবি। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে দলটি। তবে মাঝের সারির ব্যাটাররা লড়াই চালিয়ে ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যান। শেষদিকে জয়ের সম্ভাবনা জাগলেও নির্ধারিত ওভারে আরসিবির ইনিংস থামে ৯ রান দূরে।
এই জয়ে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকল লখনউ। অন্যদিকে আরসিবির জন্য শীর্ষ দুইয়ে ওঠার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল। বর্তমানে ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু। একই পয়েন্টে আরও কয়েকটি দল থাকায় প্রতিটি ম্যাচ এখন কার্যত নকআউটের রূপ নিয়েছে।
ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন লখনউয়ের তরুণ পেসার প্রিন্স যাদব। ২৮ বছর বয়সী এই অক্যাপড ভারতীয় পেসার ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল বিরাট কোহলিকে প্রথম বলেই আউট করা। ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতির ইন-সুইং ডেলিভারিতে কোহলির ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। এই উইকেটের মাধ্যমে ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আরসিবি।

চলতি আসরে প্রিন্স যাদব নিজেকে অন্যতম সফল তরুণ পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পার্পল ক্যাপের দৌড়েও রয়েছেন তিনি। বর্তমানে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় আছেন শীর্ষ তিনে।
ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি আইপিএল ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিষয়। বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) বিভিন্ন দলের টিম বাস, হোটেল এবং ডাগআউটে অননুমোদিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে।
এ বিষয়ে আইপিএলের দলগুলোর সিইওদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া। তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন,
“আইপিএলকে স্পট ফিক্সিংয়ের মতো কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কোনো দল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইতোমধ্যে রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার ও অধিনায়ককে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রিয়ান পরাগের বিরুদ্ধেও আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
লখনউয়ের এই জয় শুধু তাদের আত্মবিশ্বাসই ফিরিয়ে আনেনি, বরং আইপিএলের প্লে-অফ লড়াইকেও আরও জমিয়ে তুলেছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচই এখন দলগুলোর জন্য ‘ফাইনাল’-এ পরিণত হয়েছে।
