ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh: Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।

 

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদ, উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে কর্মশালাকে “অত্যন্ত সময়োপযোগী” উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের উৎকর্ষ অর্জনে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।

তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।”
র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী হতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বা এলামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়
উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়াই এর অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, “নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।”
সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষা কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

 

এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উদ্যোক্তা তৈরিতে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট
প্রধানমন্ত্রী জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা তৈরি করা, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।
এছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার ও প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ার আয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা জরুরি
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ন্যানো টেকনোলজিসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি সেবা Uber-এর নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Alibaba-এর নিজস্ব কোনো পণ্যের মজুদ নেই এবং আবাসনসেবা প্ল্যাটফর্ম Airbnb-এর নিজস্ব রিয়েল এস্টেট নেই।
তিনি বলেন, “ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। তারা মূলত স্মার্ট ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করছে।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।”
তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে