ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১০০ টাকার বেশি বিল নিলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

জহিরুল ইসলাম রাতুল: বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় কিংবা নিয়মিত ময়লা অপসারণে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মো. আবদুস সালাম।

 

সোমবার রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরীর নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও নাগরিক ভোগান্তির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বর্জ্য সংগ্রহ ফি নেওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এর ব্যত্যয় ঘটালে অভিযোগ তদন্ত করে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় করলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্সও বাতিল করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা বা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নগরীর কোথাও যাতে ময়লা জমে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

প্রশাসক বলেন, “দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।” আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ডিএসসিসি বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সভায় জানানো হয়, ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ভ্যান, গাড়ি ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
সভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আচরণ ও পোশাক নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। নাগরিকদের সঙ্গে ভদ্র ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রশাসক। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বাসাবাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তিনি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু একটি সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। নগরী পরিষ্কার রাখতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে