ক্রীড়া প্রতিবেদক: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বেভন জ্যাকবসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে কিউইরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে নির্ধারিত ১০৩ রানের লক্ষ্য মাত্র ১১.৪ ওভারে টপকে যায় সফরকারীরা।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। ওপেনার লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ইনিংস কিছুটা গতি পায়। তবে বৃষ্টি বিরতির পর যেন পুরো ছন্দ হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪.২ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।
বাংলাদেশের হয়ে তৌহিদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। লিটন দাস যোগ করেন ২৬ রান। তবে তাদের বিদায়ের পর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ ছয় উইকেট পড়ে মাত্র ২৬ রানে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে জশ ক্লার্কসন ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। মাত্র ৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান তিনি।
১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। শরিফুল ইসলামের আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ৩৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। একসময় ম্যাচে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু এরপরই দৃশ্যপটে আবির্ভাব বেভন জ্যাকবসের। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মিলিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন এই কিউই ব্যাটার। মাত্র ৩১ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও বড় শট। মিডল অর্ডারের আরেক ব্যাটারের সঙ্গে গড়া কার্যকর জুটি নিউজিল্যান্ডকে জয়ের পথে এগিয়ে নেয়।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও সীমিত ওভারের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা ও চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বিশেষ করে জ্যাকবসের ইনিংস কিউইদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই।
অন্যদিকে, এই হারে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে তাদের ব্যাটিং নিয়ে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা আবারও বড় সমস্যা হয়ে সামনে এসেছে। ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে না পারার ব্যর্থতা দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। দুই দলই এখন শেষ লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে থাকবে।
