স্পোর্টস ডেস্ক:
পাকিস্তান সিরিজের হতাশা পেছনে ফেলে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিটন কুমার দাস। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে ম্যাচটিতে এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজে দুর্দান্ত সব ক্ল্যাসিক শটে সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেলেও ঠিক পরের তিন ইনিংসে টানা তিনবার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন লিটন। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে শূন্যহাতে ফেরার সেই বেদনা ও ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে বেশ পুড়িয়েছিল। এমনকি দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালও জানিয়েছিলেন, ব্যর্থতার কারণে নীরবে কেঁদেছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তবে এক সিরিজ ব্যবধানেই সেই বিষাদ কাটিয়ে লিটনের মুখে ফিরেছে চওড়া হাসি। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৫ রান করে দলের জয়ে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। ম্যাচে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর (১৫৬) ঠিক পরেই অবস্থান করছেন লিটন।
আবুধাবিতে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৬ উইকেটে ২২৩ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় লিটন ৫ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। সোমবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন দুজনে। ইনিংসের ৭৭তম ওভারে কায়েসের বলে নান্দনিক এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন লিটন। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।
মাত্র ৬১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে নিজের ফিফটি পূর্ণ করার পর পরবর্তী পঞ্চাশ রান করতে লিটন বল খেলেছেন ৫৪টি, যেখানে মেরেছেন আরও ৭টি চার। সব মিলিয়ে ১১৫ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন এই টাইগার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১০২ রান করে তিনি আউট হন। অবশ্য ইনিংসটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না; ব্যক্তিগত ১৪ রানে স্লিপে শাহিদউল্লাহ কামাল এবং ২৬ রানে কায়েসের হাতে জীবন পেয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিজের বিশেষ অনুরাগের কথা জানিয়ে লিটন বলেন, “তিনটা ফরম্যাটই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা একটু ওপরে। কারণ এই ম্যাচটিতে অনেক কিছু হয়। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি থাকে। টেস্ট ক্রিকেট আমার পছন্দের।” এছাড়া উইকেটকিপিংয়ের ভূমিকা তার ব্যাটিংয়ে কতটা সাহায্য করে, সে বিষয়ে তিনি যোগ করেন, “কিপিং আমার ব্যাটিং ভালো করতে সাহায্য করে। উইকেটের পেছনে থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারি। পিচ সম্পর্কে একটা ধারণা চলে আসে। এটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেক সাহায্য করে।”
লিটনের সেঞ্চুরির ঠিক আগে দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯২ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর ৭ উইকেটে ৩৭২ রান সংগ্রহ করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল পাহাড়সম লিড।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল। এই দুজনে মিলে ২১৪ বলে ৮২ রানের একটি লড়াকু জুটি গড়েন। ১২৬ বলে ৩৫ রান নিয়ে আতাল অপরাজিত থাকলেও, ১২৪ বলে ৫১ রান করা রহমত শাহকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। দিনশেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য আফগানদের বিশ্বরেকর্ড গড়ে করতে হবে আরও ৩৪৭ রান, অন্যদিকে টাইগারদের লক্ষ্য বাকি ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করা।
