খুকৃবি প্রতিনিধিঃ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলকে ঘিরে আবেগ, উন্মাদনা ও উৎসবের আমেজে আবারও মাততে যাচ্ছে বিশ্ব। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতির মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও ফুটবল বিশ্বকাপ দীর্ঘদিনের এক আবেগ ও ভালোবাসার নাম।
এই আবেগকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ছাত্রহলে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও স্পোর্টস ক্লাব। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দুই সহকারী হল প্রভোস্টের অনুমোদনক্রমে এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর মাধ্যমে আবাসিক শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের রোমাঞ্চ উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ক্লাবের বর্তমান সেক্রেটারি সাদমানুর রহমান রকি বলেন, “খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের আয়োজন হয়নি। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপের আনন্দ একসঙ্গে ভাগাভাগি করে নিক। বড় পর্দায় খেলা দেখার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন মাত্রার আনন্দ নিয়ে আসবে এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করবে।” বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা মুশফিকুর রহমান বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অস্থায়ী ছাত্রহল ও এর আশপাশে অবস্থান করে। এমন বাস্তবতায় এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করবে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করবে।” শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ ক্যাম্পাস জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। প্রিয় দল ও তারকা খেলোয়াড়দের সমর্থনে মুখরিত হবে অস্থায়ী ছাত্রহল। গোলের উল্লাস, জয়ের আনন্দ এবং পরাজয়ের বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হবে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত। ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন শুধু খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফুটবলের চিরন্তন বার্তা— প্রতিযোগিতার মধ্যেও বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব— খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে নতুনভাবে অনুরণিত হবে এই আয়োজনের মাধ্যমে।
