ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ‘কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আছি, নিজেকে ভাসমান মনে হয়’: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা

‘কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আছি, নিজেকে ভাসমান মনে হয়’: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা

নবপ্রকাশ ডেস্ক

কানাডায় বর্তমানে শরণার্থী (রিফিউজি) হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। শেখ হাসিনার সরকার আমলের এক সাজানো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে আইনি জটিলতায় তিনি সে দেশে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পিআর) পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন। ফলে বর্তমানে নিজেকে ‘স্ট্যাটাসবিহীন একেবারে ভাসমান’ অবস্থায় দেখছেন দেশের ২১তম এই প্রধান বিচারপতি।

বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে ছোট মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছেন বিচারপতি এস কে সিনহা। নিজ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “আমি তো রিফিউজি হিসেবেই আছি এখন। কারণ হলো শেখ হাসিনার সরকার আমাকে একটা কনভিকশন (দোষী সাব্যস্ত করা) দিয়েছিল, একটা সাজানো মামলায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি স্ট্যাটাসবিহীন একেবারে ফ্লোটিংম্যান, যাকে বলে ভাসমান লোক হিসেবে আছি।”

তিনি জানান, তার স্ত্রীর কানাডায় পিআর অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু তার নিজের পিআর অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট না পাওয়ায় এখনো কার্ড ইস্যু করা হয়নি।

বিরোধ ও দেশত্যাগের পটভূমি

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি ছিলেন দেশের ইতিহাসে প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। তার দায়িত্বের স্বাভাবিক মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও তার ৮২ দিন আগেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে অর্পণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়ে ওই সংশোধনী বাতিল করে দেন। ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে বহাল থাকে।

এস কে সিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, রায় ঘোষণার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা সরকারের পক্ষে অবস্থান নিতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি নতিস্বীকার না করায় পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন তিনি। সে সময় প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা ও ছুটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং বিরোধী দল বিএনপি তাকে ‘গৃহবন্দী’ করে রাখার অভিযোগ তোলে। একই বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। দেশ ছাড়ার মুহূর্তে তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি অসুস্থ নন, বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থেই সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ছেন। এরপর অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর তিনি পুনরায় কানাডায় ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার আকুতি ও পাসপোর্ট জটিলতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই প্রধান বিচারপতি দেশে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। সরকার পতনের পরপরই তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।

তবে আবেদনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পাসপোর্ট হাতে পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাসপোর্ট ইস্যুতে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে তিনি বহুবার যোগাযোগ করেছেন। এমনকি গত ৪ আগস্ট ই-মেইলে রিমাইন্ডার দিলেও সেখান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে