ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সিডনির মঞ্চে নতুন রূপে জেমস

সিডনির মঞ্চে নতুন রূপে জেমস

বিনোদন ডেস্ক

সিডনির হিলসং কনভেনশন সেন্টারে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে গিটার হাতে মঞ্চ মাতিয়েছেন নগরবাউল জেমস। অস্ট্রেলিয়ার নরওয়েস্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে পারফর্ম করেন কলকাতার জনপ্রিয় ব্যান্ড ফসিলসের রূপম ইসলাম।

জেমসের কণ্ঠে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘তারায় তারায়’ ও ‘ভিগি ভিগি’র মতো জনপ্রিয় গান শুনে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শকেরা। তবে অনুষ্ঠানের আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয় তার বহুলপ্রিয় গান ‘মা’। একের পর এক গানে হাজারো শ্রোতার সঙ্গে সিডনির রাতটি যেন পরিণত হয় প্রাণবন্ত এক সংগীতসন্ধ্যায়।

সিডনির ব্যস্ত সড়কে তখন ছুটছিলেন সবাই নিজের গন্তব্যের দিকে। ফুটপাতের এক পাশে বেহালা হাতে সুর তুলছিলেন এক তরুণ পথশিল্পী। সেই সুরই হঠাৎ থামিয়ে দেয় জেমসকে।

কোনো মঞ্চ নেই, নেই দর্শকের ভিড় কিংবা আলোর ঝলকানি। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে নীরবে অচেনা সেই শিল্পীর বাজনা শুনতে থাকেন নগরবাউল। ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেও কয়েক মুহূর্ত যেন পুরোপুরি সুরের মধ্যে ডুবে ছিলেন তিনি।

কনসার্টের পর আরও চার দিন সিডনিতে ছিলেন জেমস। সময়টি কাটিয়েছেন নিজের মতো করে।

যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন জানেন, জেমস স্বল্পভাষী মানুষ। জনসমক্ষে কম কথা বলা ও নিজস্ব বলয়ে থাকা এই শিল্পীকে শহরের পথে দেখা গেছে একজন সাধারণ পর্যটকের মতো।

ছুটে বেড়িয়েছেন সিডনির ব্যস্ত সড়কে। ফুটপাতের কোণে থমকে দাঁড়ান পথশিল্পীর বেহালার সুরে। অপলক শুনতে থাকলেন অচেনা শিল্পীর বাদন। কোনো কথা নেই, তাড়া নেই—শুধু সুরে ডুবে থাকা। চারপাশে শহরের চেনা ব্যস্ততা, অথচ জেমস স্থির। দীর্ঘ সময় ধরে তন্ময় হয়ে শুনলেন তরুণের বাজনা।

সিডনিতে তারকাসুলভ ব্যস্ততার বাইরে একেবারেই সাদামাটা সময় কাটিয়েছেন জেমস। শহরের বাণিজ্যিক এলাকা, বিপণিবিতান ও বাজারে ঘুরেছেন নিজেই। সঙ্গে ছিল না কোনো বাড়তি নিরাপত্তা বা বিশেষ আয়োজন। সহধর্মিণীর দেওয়া তালিকা দেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেছেন। পাশাপাশি নিজের পছন্দের সুগন্ধির খোঁজে ঘুরেছেন শহরের একটি পুরোনো অভিজাত দোকানেও।

সংগীতের পাশাপাশি আলোকচিত্রের প্রতি জেমসের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সিডনিতেও সেই অভ্যাসের ব্যতিক্রম হয়নি। বিকেল হলেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েছেন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। কখনো আয়োজক বেঙ্গলি সিনে ক্লাবের তানিম মান্নান, প্রসেনজিৎ রায় ও সৈকত মণ্ডল ছিলেন তার সঙ্গী। আবার কখনো সঙ্গে ছিলেন আহসান এলাহী ফান্টি, গিটারিস্ট তালুকদার সাব্বির, ইশমামুল ফরহাদ, কিবোর্ডিস্ট আবদুল কাইয়ুম ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর।

জেমসের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কিরিবিলি, হারবার ব্রিজ ও সিডনি অপেরা হাউসের নানা মুহূর্ত। গোধূলির আলো, পানির ঢেউ কিংবা স্থাপনার নান্দনিক দৃশ্য—সবকিছুই নিজের মতো করে ফ্রেমবন্দী করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ট্রাইপড বসিয়ে ছবি তুলতে দেখে তাকে পর্যটক নাকি আলোকচিত্রী, তা বোঝাই কঠিন ছিল।

কিরিবিলির ঘাটে এমনই এক ফটোসেশনে ঘটেছে মজার ঘটনা। জেমস ও তার সঙ্গীরা ছবি তুলে দেওয়ার জন্য এক পথচারীর সাহায্য চান। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেই একজন পেশাদার আলোকচিত্রী। ক্যামেরা হাতে নিয়েই তিনি জেমসকে নানা নির্দেশনা দিতে শুরু করেন—কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কোথায় তাকাতে হবে, এমনকি চোখ খোলার কথাও মনে করিয়ে দেন।

ঘটনাটি দেখে জেমসের সঙ্গীরা কিছুটা বিব্রত হলেও শিল্পী নিজে ছিলেন বেশ স্বচ্ছন্দ। হাসিমুখে অচেনা আলোকচিত্রীর সব নির্দেশ মেনে পোজ দেন তিনি। পুরো ঘটনাটিই উপভোগ করেছেন জেমস।

সিডনিতে গাড়িতে ঘোরার সময়ও সংগীত ছিল তার সঙ্গী। শুনছিলেন ফরাসি জ্যাজ। ভাষাটি না বুঝলেও সুরের আবেগ তাকে মুগ্ধ করেছিল। এ প্রসঙ্গে জেমসের উপলব্ধি—সংগীতের কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা সীমান্ত নেই; গানের কথা না বুঝলেও তার অনুভূতি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে