বিনোদন ডেস্ক:
জনপ্রিয় মার্কিন অপরাধভিত্তিক ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অসাধারণ অভিনয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী আরজে মিতে (RJ Mitte) মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর। তবে এই জনপ্রিয় অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও প্রকাশ করেনি তাঁর পরিবার বা প্রতিনিধিরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে অভিনেতার মৃত্যুর সংবাদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তাঁর জনসংযোগ প্রতিনিধি শন রেইলি।
শন রেইলির দেওয়া এক শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে জানানো হয়, একাধারে প্রতিভাবান অভিনেতা, মানবতাবাদী সমাজসেবক এবং প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের সোচ্চার কণ্ঠস্বর আরজে মিতের প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী টেলিভিশনের পর্দায় সম্প্রচার শুরু হওয়া কালজয়ী সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন আরজে মিতে। এই ধারাবাহিক নাটকে তিনি মূল চরিত্র রসায়নের শিক্ষক থেকে মাদকসম্রাট হয়ে ওঠা ওয়াল্টার হোয়াইট (যাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন)-এর প্রতিবন্ধী পুত্র ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে কোটি দর্শকের মন জয় করেছিলেন। সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা।
ব্যক্তিগত জীবনে সেরিব্রাল পালসি (Cerebral Palsy) নামক স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন আরজে মিতে। নিজের বাস্তব জীবনের শারীরিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে তাঁর চরিত্রটিকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন। শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি; সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান অধিকার, অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং এসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন এই তারকা।
তিনি ‘ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি’ এবং ‘শ্রাইনার্স চিলড্রেনস’-এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ‘মিতে ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতির দায়িত্বে থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রেখেছিলেন।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সফলভাবে প্রচারিত পাঁচ মৌসুমের ‘ব্রেকিং ব্যাড’ টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় সিরিজ হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত। সম্প্রতি স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর একবিংশ শতাব্দীর সেরা টেলিভিশন সিরিজের তালিকায়ও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এই কাল্ট সিরিজটি। তরুণ এই তারকার অকালপ্রয়াণে হলিউডসহ বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
