জার্মানিতে উদ্ধার অভিযানের পর সাগরে ছেড়ে দেওয়া তরুণ হাম্পব্যাক তিমি ‘টিমি’র মৃতদেহ ডেনমার্কের উপকূলে পাওয়া গেছে। ড্যানিশ এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ডিইপিএ) শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এজেন্সির ডিভিশন প্রধান জেন হ্যানসেন সিএনএনকে বলেন, “অ্যানহল্টের কাছে আটকে পড়া তিমিটি আগে জার্মানিতে আটকে পড়া এবং উদ্ধার অভিযানের বিষয়বস্তু সেই একই তিমি।” উদ্ধারের সময় তিমির শরীরে লাগানো ট্র্যাকিং ডিভাইসটি খুঁজে পাওয়ার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
গত শুক্রবার ডেনমার্ক-সুইডেনের মাঝে কাটেগাট প্রণালীর অ্যানহল্ট দ্বীপের কাছে টিমির মৃতদেহ পাওয়া যায়। এটি তাকে ছেড়ে দেওয়া স্থান থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।
টিমির দুর্ভোগের শুরু
চলতি বছরের মার্চের শুরুতে জার্মানির উইসমার বন্দরে মাছ ধরার জালে আটকে পড়ে টিমি। পরে মার্চের শেষের দিকে জার্মানির উত্তর উপকূলের টিমেনডর্ফার স্ট্র্যান্ডের অগভীর পানিতে আটকে যায় সে। স্থানীয় নাম অনুসারেই তার নামকরণ করা হয় টিমি। এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক মিডিয়া কভারেজ পায় এবং লাইভস্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে লাখো মানুষ তার অবস্থা দেখতে পান।
প্রথমদিকে উদ্ধারকারীরা তাকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে একটি বেসরকারি সংস্থা বিতর্কিতভাবে অভিযান চালিয়ে একটি বার্জে তুলে তাকে খোলা সাগরে ছেড়ে দেয়।
বিতর্কিত উদ্ধার অভিযান
বাল্টিক সাগরের কম লবণাক্ত পানিতে টিমির ত্বকের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। দিনের পর দিন সে প্রায় নড়াচড়া করতে পারছিল না এবং অনিয়মিতভাবে শ্বাস নিচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছিলেন, তিমিটি এত দুর্বল যে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। গ্রিনপিসের মেরিন বায়োলজিস্ট থিলো মাক এপ্রিলে বলেছিলেন, “আমি মনে করি তিমিটি খুব শিগগিরই মারা যাবে। প্রকৃতিতে পশুরা জন্মায় এবং মরে—এটাই স্বাভাবিক।”
অন্যদিকে, জার্মানির পরিবেশমন্ত্রী টিল ব্যাকহাউস উদ্ধার অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, “জীবনের সামান্যতম সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো উচিত।”
উদ্ধার অভিযানকে অনেকে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বলে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, এতে তিমিকে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
ড্যানিশ এজেন্সি জানিয়েছে, টিমির মৃতদেহ সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কারণ এটি বর্তমানে এলাকার জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করছে না। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সম্ভাব্য বিস্ফোরণের আশঙ্কায় জনসাধারণকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবং তিমির কাছে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টিমির এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সমুদ্রের বন্যপ্রাণীদের জন্য মানুষের হস্তক্ষেপ কখনো কখনো জটিল নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। হাম্পব্যাক তিমিরা সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং অগভীর বা লবণাক্ততা কম এমন এলাকায় আটকে পড়লে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এনপি/আইডি
