ব্রাহ্মণবাড়িয়া,সংবাদদাতা:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় ও পরিবারের দাবি, দু’জন নিহত হয়েছেন।
নিহত ওই বাংলাদেশির নাম মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতানবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকার ভালো কাজের উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করবো: জামায়াত আমীর
অন্যদিকে স্থানীয় ও পরিবারের দাবি, নবীর হোসেন নামে আরেকজন নিহত হয়েছেন। তিনি মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারি রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীন হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার লাশ ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় আহত নবীর হোসেনকেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুইজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন বলেন, ‘তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। পরে বিএসএফ লাশ নিয়ে যায়।’ বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যান। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে চণ্ডীদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।’
