ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » শক্তিশালী “এল নিনো”তে বদলে যেতে পারে বিশ্বের আবহাওয়া

শক্তিশালী “এল নিনো”তে বদলে যেতে পারে বিশ্বের আবহাওয়া

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ২০২৬ সালে একটি শক্তিশালী ‘এল নিনো’ তৈরি হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও দাবানলের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতেই শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিবর্তনই নতুন করে এল নিনোর সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেকথ্রু ইনস্টিটিউটের জলবায়ু ও শক্তি বিভাগের পরিচালক জেকে হাউসফাদার জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সব প্রধান আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল এখন শক্তিশালী এল নিনোর সংকেত দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “মডেলগুলোর গড় বিশ্লেষণ বলছে, সামনে একটি বেশ শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।” তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বসন্তকালে এল নিনোর প্রকৃত তীব্রতা নির্ধারণ করা কিছুটা কঠিন। তবুও সমুদ্রপৃষ্ঠের দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এল নিনো কেবল একটি সাময়িক আবহাওয়া পরিবর্তন নয়; এটি বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতে বড় এল নিনোর সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবদাহ, দীর্ঘমেয়াদি খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা গেছে। কোথাও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও আবার দাবানলে পুড়ে গেছে বিশাল বনাঞ্চল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীরের ব্যাপক ক্ষতি এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের স্বাভাবিক অভিবাসন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) এপ্রিল মাসের এক আপডেটে জানিয়েছিল, শক্তিশালী এল নিনো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে এরপর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা আরও দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। NOAA আগামী ১৪ মে এ বিষয়ে তাদের পরবর্তী বড় পূর্বাভাস প্রকাশ করবে। সেই আপডেট থেকেই এল নিনোর সম্ভাব্য শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

 

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। সাধারণত যখন তাপমাত্রা গড়ে অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পায়, তখন সেটিকে এল নিনো পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়। এই উষ্ণতা শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ বদলে দেয়। ফলে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও দীর্ঘ খরা, আবার কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। NOAA এল নিনোর প্রভাবকে তুলনা করেছে একটি “দানবীয় ঘণ্টা”র সঙ্গে। সংস্থাটির ভাষায়, প্রশান্ত মহাসাগরে এই ঘণ্টা বাজলে তার প্রতিধ্বনি পৃথিবীর বহু দূরের দেশেও অনুভূত হয়।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬০০-এর দশকে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের জেলেরা প্রথম এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। বড়দিনের সময় সমুদ্রের পানি হঠাৎ গরম হয়ে উঠত বলে তাঁরা এর নাম দেন “এল নিনো”, যার অর্থ স্প্যানিশ ভাষায় “ছোট ছেলে” বা খ্রিস্টশিশু।

 

বর্তমানে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক আবহাওয়া মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে