ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ব্যর্থ ৫ ফ্লাইওভার, আবার নতুন উড়াল সড়ক

ব্যর্থ ৫ ফ্লাইওভার, আবার নতুন উড়াল সড়ক

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজট নিরসনে গত ১৫ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে উড়াল সড়কগুলোর ওপর দিয়ে মাত্র ২ শতাংশ যানবাহন চলাচল করা এবং নিচের সড়কে স্থবিরতা না কমার অভিযোগের মধ্যেই এবার উত্তর চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার অক্সিজেন মোড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম নগরের সীমিত জমিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার না করে শুধু ইট-কংক্রিটের ফ্লাইওভার তৈরি করায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)-এর মতো কার্যকর গণপরিবহন চালুর সুযোগ আগেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সমন্বয়হীন ফ্লাইওভারের বদলে অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক সমীক্ষা এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাই হতে পারে অক্সিজেন মোড়ের যানজট নিরসনের টেকসই পথ।

অক্সিজেন মোড় প্রকল্পের রূপরেখা

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত উড়াল সড়কটি ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে, যা বায়েজিদ, হাটহাজারী, মুরাদপুর এবং ছয় লেনের কুয়াইশ সড়কের সাথে যুক্ত হবে। প্রকল্পটিতে সাতটি ভিন্নমুখী র‍্যাম্প নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকল্পটির বিস্তারিত প্রস্তাব (ডিপিপি) শিগগিরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এটিকে ‘সময়ের দাবি’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, দ্রুত অনুমোদন পেলে শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

বাস টার্মিনাল চালু হলে ফ্লাইওভারের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাস মালিকদের দাবি, অক্সিজেন মোড়ের মূল যানজটের প্রধান কারণ সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অর্ধডজন অবৈধ বাস ও সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। কুলগাঁও বালুচরা সিটি করপোরেশন বাস টার্মিনালটি চলতি মাসেই (অক্টোবর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর ও পার্বত্য চট্টগ্রামগামী সকল দূরপাল্লার বাস উক্ত টার্মিনালে স্থানান্তরিত হলে অক্সিজেন মোড়ের অর্ধেকেরও বেশি যানজট স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুবীর মহাজন ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান একমত পোষণ করে জানান, অবৈধ স্ট্যান্ড সরালে ও বাসগুলো কুলগাঁও টার্মিনালে গেলে মোড় ফাঁকা হয়ে যাবে। ফলে মেগা ফ্লাইওভার না বানিয়ে কেবল সুশাসন নিশ্চিত করলেই সমস্যার বড় সমাধান সম্ভব।

পুরোনো অভিজ্ঞতায় অকার্যকারিতার চিত্র

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত বহদ্দারহাট, মুরাদপুর-লালখানবাজার, কদমতলী ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার এবং ৪,৩৬৯ কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজ। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যস্ত সময়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক দিয়ে ওপরের চেয়ে প্রায় ৩.৮৫ গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, “প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার থেকে নেমে গাড়ি যদি নিচে গিয়ে আবার জটলায় পড়ে, তবে সম্পূর্ণ নিচের সড়কই অকার্যকর হয়ে পড়বে। হালনাগাদ ট্রাফিক সমীক্ষা ছাড়া এবং নিচের সড়কে পথচারী, সাইকেল ও গণপরিবহনের স্থান সংকীর্ণ করে এমন মেগা অবকাঠামো নির্মাণ করা আত্মঘাতী।”

নগরবিদদের পরামর্শ, কোটি কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আগে বাস টার্মিনাল চালুর সুফল পর্যবেক্ষণ এবং পথচারী ও গণপরিবহনবান্ধব সমন্বিত সড়ক নীতি বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে