ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ঢাকা: বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং এ দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় এবং তারাই দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালায়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের মানুষ আবহমানকাল ধরে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। কিন্তু দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে বলে দেশ-বিদেশে নানা বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়। বাংলাদেশের জনগণ স্ব-স্ব ধর্ম সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে সেই অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।”

ঐতিহ্যবাহী স্লোগানের প্রসঙ্গে এক নতুন বার্তার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আপনাদের যে জনপ্রিয় স্লোগান—‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’; আমরা তার সঙ্গে আরও একটি বার্তা যোগ করতে চাই—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সংবিধান আপনাকে যে নাগরিক অধিকার দিয়েছে, রাষ্ট্র তা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।”

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম, তা থেকে আমরা একচুলও সরে যাইনি। সেই বাংলাদেশ রক্ষায় আমরা যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।”

রাজনীতি ও জাতীয় অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম অবস্থানে যেতে চাই না। আমরা চরমপন্থী নই। আমাদের এই শান্তিকামী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ধারাটা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে।”

তিনি জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন দেশজুড়ে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারকেই নয়, বরং নিজের দলের সকল নেতাকর্মীদেরও পাহারা ও সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশ এখন একটি চরম অগণতান্ত্রিক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এটিই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিশ্বকবির চরণ উদ্ধৃত করে আশাবাদের বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার কালজয়ী পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করে তিনি বলেন:

“যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে / সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া,

যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে, / যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া,

মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে, / দিক্-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা,

তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, / এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।”

কবিতাংশের সূত্র ধরে সংকল্প ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “আমরাও পাখা বন্ধ করব না। আমরা উড়ে যাব, এবং অবশ্যই সুনির্দিষ্ট তীরে পৌঁছব। আমাদের যে লালিত স্বপ্ন—একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিময় ও প্রেমময় বাংলাদেশ—সেই বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ন্যায্য ও যুক্তিসংগত দাবিগুলো পূরণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে পূজা উপলক্ষে দেশের সকল নাগরিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন রাষ্ট্রপতি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে