স্পোর্টস ডেস্ক:
রেকর্ড ও কীর্তিময় এক অবিশ্বাস্য মৌসুম কাটানোর সুবাদে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর উঠেছে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের হাতে। বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দলের জার্সিতে পুরো বছরজুড়ে গোলের জোয়ার বইয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের সোনালি সময় পার করেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করার পাশাপাশি চোখধাঁধানো দলীয় সাফল্য তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের এই ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এনে দিয়েছে। কেইনের এই ঐতিহাসিক ব্যালন ডি’অর জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর তিনটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স—বিশ্বকাপে জোড়া গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ডগড়া ম্যাচ এবং জার্মান কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক।
বিশ্বকাপে জোড়া গোল ও ইংল্যান্ডের জয়: বিশ্বকাপের মঞ্চে কেইনের জাদুকরী পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তীব্র সংকটে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের এমন কঠিন মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন কেইন। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এখানেই শেষ নয়, এরপর ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের চোখ জুড়ানো জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। তাঁর এই জোড়া গোলই মূলত টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের শেষ ষোলোতে ওঠার পথ মসৃণ করেছিল। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচেও গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স: ইউরোপসেরার মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে রেকর্ড গড়েছেন হ্যারি কেইন। পিএসজির বিপক্ষে সেমিফাইনালের রোমাঞ্চকর প্রথম লেগে বায়ার্ন ৫-৪ গোলে হেরে গেলেও পুরো আলো কেড়ে নিয়েছিলেন কেইন। ওই ম্যাচে একটি পেনাল্টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ লুইস দিয়াজকে বাড়িয়েছিলেন দারুণ এক নিখুঁত পাস, যা থেকে গোল আদায় করে নেয় দল। ম্যাচটিতে বায়ার্ন হেরে গেলেও কেইনের একক নৈপুণ্য ছিল নজরকাড়া। এই গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ছয়টি ম্যাচে গোল করার দুর্লভ রেকর্ড গড়েন তিনি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন এক মাইলফলক। এর আগে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডটি ছিল লিভারপুলের কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডের দখলে।
জার্মান কাপের ফাইনালে রূপকথার হ্যাটট্রিক: কেইন ম্যাজিকের চূড়ান্ত রূপ দেখা গিয়েছিল জার্মান কাপের ফাইনালে। স্টুটগার্টের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের তিনটি গোলই একাই করেছিলেন কেইন। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মাইকেল অলিসের ক্রসে নিখুঁত হেডে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৮০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে বক্সের ভেতর থেকে নিজের অসাধারণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ে সফল স্পট কিকে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বায়ার্ন অধিনায়ক। ফাইনালে তাঁর এই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সুবাদেই বুন্দেসলিগার পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ জার্মান কাপের শিরোপাও নিজেদের ঘরে তোলে বায়ার্ন মিউনিখ।
মাঠের এই নান্দনিক পারফরম্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে দলের হাল ধরা এবং অবিরাম গোল করার অদম্য ক্ষুধাই শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনকে এনে দিয়েছে বহুকাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফি।
