রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ডিএনএ (DNA) রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ রিপোর্টের পাশাপাশি শিশুটির ময়নাতদন্ত (Autopsy) এবং ভিসেরা (Viscera) রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ফরেনসিক প্রতিবেদনও তদন্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণাদি আদালতে অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
এদিকে আজ বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়ে বলেন:
“আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার। যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি এই ধরনের জঘন্য কাজ করার আর সাহস না পায়। একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।”
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট
• ভীতিকর অপরাধ: রাজধানীর পল্লবী এলাকায় মাত্র ৭ বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।
• বিচারের পথে দ্রুত অগ্রগতি: সিআইডির পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে সব ফরেনসিক ও বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট হস্তান্তর করায় এখন মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।
• সরকারের কঠোর অবস্থান: খোদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও সর্বোচ্চ শাস্তির ঘোষণা আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণাদি সময়মতো হাতে আসায় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদিচ্ছা থাকায় এই মামলার দ্রুত রায় প্রকাশ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
জে আই আর
