ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » দীর্ঘদিন অনুপস্থিত দুই শিক্ষক

দীর্ঘদিন অনুপস্থিত দুই শিক্ষক

জেলা ডেস্ক

অবস্থান করছেন, অন্যজন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন কাজে না ফেরায় দুজনেরই বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঢাদিনাজপুর মেডিকেল কলেজের এক সহযোগী অধ্যাপক ও এক প্রভাষক দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের একজন বিদেশেকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম খানকে গত বছরের ৪ নভেম্বর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের একই বিভাগে বদলি করা হয়। এর আগে ঢাকা মেডিকেলে কর্মরত থাকাকালে গত বছরের ১ নভেম্বর অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের এক নারী রেসিডেন্ট চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের সেবা বন্ধ রাখেন। পরে তাকে সাংগঠনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ঘটনার তিন দিনের মাথায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক আদেশে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। সেখানে প্রথম কয়েক মাস নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও চলতি বছরের ১৯ মে’র পর থেকে তিনি আর কর্মস্থলে যাননি।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শেখ সাদেক আলী বলেন, ১৯ মে সর্বশেষ কলেজে এসেছিলেন ডা. শামসুল। এরপর দুই দিনের ছুটি নিয়ে আর কাজে ফেরেননি। অনুপস্থিতির বিষয়ে গত ১২ ও ১৮ আগস্ট তাকে দুবার শোকজ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে আবারও শোকজ করা হয়েছে। নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে তার বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে ডা. শামসুল ইসলাম খান অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য হওয়ায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে সরানো হয়েছে। বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, বদলির চেষ্টা করছেন। বদলি হলে বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করবেন। তার দাবি, ২৮ বছর চাকরি করায় তার অনেক ছুটি জমা রয়েছে এবং সেই ছুটির বিপরীতে বেতন-ভাতা পাওয়ার আবেদন করবেন।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ডা. শামসুল কক্সবাজারে বদলি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে রোগী দেখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. সঙ্গীতা চৌধুরী প্রায় ১০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় আছেন। তার বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শাহীন আক্তার সুমিও কিছুদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে সরকারি চাকরিবিধি মেনে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের পদ শূন্য না হওয়ায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষক সংকটে থাকা কলেজটির শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও ব্যাহত হচ্ছে।

কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, এমনিতেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর মধ্যে পদে থেকেও শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি জানান তিনি।

‘নিরাপদ ঔষুধ চাই’ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রাব্বী বলেন, বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী দুই মাসের বেশি অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে