ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » তামিলনাড়ুর মসনদে ‘থ্যালাপ্যাথি’ বিজয় দ্রাবিড়ীয় দুর্গ ভেঙে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা

তামিলনাড়ুর মসনদে ‘থ্যালাপ্যাথি’ বিজয় দ্রাবিড়ীয় দুর্গ ভেঙে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি বরাবরই দ্রাবিড়ীয় মতাদর্শ ও আঞ্চলিক দলগুলোর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ুর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK)। তবে সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও ‘থ্যালাপ্যাথি’ খ্যাত সি. জোসেফ বিজয়।

 

 

রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক, দলীয় কর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ‘তামিলনাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) দলের প্রধান বিজয়। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অ-দ্রাবিড়ীয় দল এককভাবে সরকার গঠন করল।

ডিএমকে সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রীতির বাইরে গিয়ে বিজয় শপথ গ্রহণ করেন ‘ঈশ্বরের নামে’। এই পদক্ষেপকে অনেকে নতুন রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।

 

 

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানে বিজয় তাঁর জয়ের পেছনে কংগ্রেস, ভিসিকে (VCK) এবং বাম দলগুলোর সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান।

 

তিনি বলেন, “এই জয় শুধু আমার নয়, এটি তামিলনাড়ুর শিশুদের জয়। তারাই তাদের পরিবারকে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সই করেন বিজয়।

 

প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর গৃহস্থালি গ্রাহকরা প্রতি মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠন করা হচ্ছে বিশেষ বাহিনী—“স্পেশাল ফোর্স ফর উইমেন’স সেফটি”।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় এসেই জনমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

শপথ গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে বিজয় নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“আমি কোনো রাজকীয় বংশ থেকে আসিনি। সাধারণ মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে বলেই আজ আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।”

 

এ সময় তিনি বিদায়ী ডিএমকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার রাজ্যকে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা দিয়ে গেছে। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর একটি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

 

 

বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৯ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এতে একমাত্র নারী মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন এস. কীর্তনা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন কে. জি. অরুণরাজ, ‘বুসি’ এন. আনন্দ, আধাভ অর্জুনা এবং বর্ষীয়ান নেতা কে. এ. সেনগোত্তাইয়ান।

 

 

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ১৩ মে অথবা তার আগেই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে।

 

নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিনন্দন বার্তায় বলেন, তামিলনাড়ুর জনগণের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

 

মাত্র দুই বছর আগে, ২০২৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিনেতা বিজয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর দল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই যাত্রা শুধু তামিলনাড়ুতেই নয়, পুরো ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

 

দীর্ঘদিনের দ্রাবিড়ীয় আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বিজয়ের উত্থানকে অনেকেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে “নতুন যুগের সূচনা” হিসেবে দেখছেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে