কোর্ট রিপোর্টার:
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করেছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ (নীল প্যানেল)। শুক্রবার (১ মে) ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলে দেখা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের সব কটিতেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নীল প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিটি পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনে নীল প্যানেলে (বিএনপি-সমর্থিত) যারা জয়লাভ করেছেন, তারা হলেন সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ীরা হলেন—সিনিয়র সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস এবং সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর অ্যানি। এছাড়াও কার্যকরী কমিটির ১০টি সদস্য পদের সব কটিতেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২০ হাজার ৭২৭ জন ভোটারের মধ্যে এবার ভোট দিয়েছেন ৭ হাজার ৬৯ জন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে নীল প্যানেল এবং জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)-এর মধ্যে।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার আগেই এনসিপি সমর্থিত আইনজীবী সংগঠন ‘ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স’ ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক সাকিল আহাম্মদ এক বিবৃতিতে বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। জাল ভোট প্রদান এবং বিরোধী প্যানেলের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মাধ্যমে অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের ভোট ডাকাতির পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে।”
তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, “নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই একটি পক্ষ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অভিযোগ তুলছে।”
