ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » প্রধানমন্ত্রী আজ যশোরের উলুশি-যদুনাথপুর খাল পুনঃ খনন করবেন

প্রধানমন্ত্রী আজ যশোরের উলুশি-যদুনাথপুর খাল পুনঃ খনন করবেন

নবপ্রকাশ রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ যশোরের তুলসী যদুনাথপুর খাল কোন খনন করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খননের মধ্য দিয়ে যশোরের কৃষকদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন। ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের এক বিশাল এলাকা শুষ্ক মৌসুমে খরা পীড়িত হয়ে পড়তো। ফসলের ক্ষেত পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে পড়তো। কৃষক পেতনা তার কাঙ্ক্ষিত ফসল। কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাতে তুলে নিয়েছিলেন কোদাল কেটেছিলেন শত শত মাইল খাল। আর তাতেই কৃষক ফলিয়েছিল দ্বিগুণ ফসল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নদী, খাল আর জলপথ শুধু ভৌগোলিক উপাদান নয়—এগুলো এই দেশের জীবনরেখা। কৃষিনির্ভর এই সমাজে পানি মানেই জীবন, আর সেই পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম হলো খাল। সময়ের বিবর্তনে অনেক খাল হারিয়ে গেছে, অনেক খালের নাব্যতা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু যখন কোনো রাষ্ট্র আবার সেই হারানো জলপথ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, তখন তা শুধু উন্নয়ন নয়—এটি হয়ে ওঠে ইতিহাসের পুনর্জাগরণ। এই সত্য উপলব্ধি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং এখন আরো উপলব্ধি করছেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান।
যশোরের উলুশি-যদুনাথপুর খাল একটি নাম, যা বহন করে এক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ১৯৭৬ সালে এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। সেই সময় এই খাল ছিল আশীর্বাদ—শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ, বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসন, এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার একটি কার্যকর মাধ্যম।
আজ, প্রায় অর্ধশতাব্দী পর, আবারও সেই খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি নিছক একটি প্রকল্প নয়; এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ—অতীতের সফলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে পুনর্গঠন করার এক সাহসী প্রয়াস। উলুশি-যদুনাথপুর খালের পুনঃখনন যেন সময়ের সেতুবন্ধন, যেখানে ইতিহাস ও বর্তমান হাত মিলিয়েছে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো—গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শহরের অগ্রগতির পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই একটি টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
উলুশি-যদুনাথপুর খালের পুনঃখনন কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে, এবং কৃষক তার জমিকে আরও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারবে। শুধু ধান নয়, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল এবং মাছ চাষের সুযোগও সৃষ্টি হবে। এতে করে কৃষকের আয় বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে এই খাল পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। এর ফলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে—ফিরে আসবে জলজ প্রাণ, পাখি, এবং সবুজের সমারোহ।
এই খাল খননের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি আবেগঘন ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। পূর্বে যে উদ্যোগ কৃষকের জীবনে আলো এনেছিল, আজ সেই একই পথ অনুসরণ করে আবারও নতুন করে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এটি যেন একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতীক—একটি স্বপ্নের উত্তরাধিকার।
গ্রামের সাধারণ কৃষকের চোখে এই উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা দেখছে তাদের জীবনের বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা। তাদের কাছে এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এক নতুন শক্তি। একজন কৃষক হয়তো সহজ ভাষায় বলবে—“খালটা যদি আবার ঠিকমতো চলে, তাহলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।”
তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু খাল খনন করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। খাল দখলমুক্ত রাখা, পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা—এসব বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, উলুশি-যদুনাথপুর খাল খনন একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা। এটি শুধু অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নয়; এটি ভবিষ্যতের একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলার প্রয়াস। এই উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তাতে এই খাল খনন ছিল অগ্রাধিকার ভিত্তিক এক কর্মসূচি। আজ সোমবার তারেক রহমান পুলিশি যদুনাথপুর খাল অন করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাবেন। বিকাল বেলায় ঘুমিয়ে যশোর স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে