স্পোর্টস ডেস্ক: ৫ মে ২০২৬ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুমের এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে এভারটনের সাথে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। জেরেমি ডোকুর স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় গোলে সিটি শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরলেও, এই ফলাফল তাদের টাইটেল রক্ষার আশায় বড় আঘাত হেনেছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনাল এখন স্পষ্টতই শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গেল।
সোমবার রাতে গুডিসন পার্কে (হিল ডিকিনসন স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিটি প্রথমার্ধে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে এভারটনের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখা যায়। জেরেমি ডোকু ৪২তম মিনিটে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে সিটিকে এগিয়ে দেন। কিন্তু বিরতির পর এভারটন ঘুরে দাঁড়ায়।
থিয়ের্নো ব্যারি সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গেহির ভুল ব্যাক পাস কেড়ে নিয়ে গোল করে সমতা ফেরান। মাত্র পাঁচ মিনিট পর জেমস গার্নারের কর্নার থেকে জেক ও’ব্রায়েন হেড করে এভারটনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৮১তম মিনিটে ব্যারি আবারও গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন।
যখন মনে হচ্ছিল এভারটন জয়ের খুব কাছে, তখন আর্লিং হালান্ড দুর্দান্ত এক গোলে (মৌসুমের ২৫তম) সিটিকে ৩-২ করেন। অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে ডোকু আবারও জ্বলে ওঠেন। তার অনবদ্য বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে যায় এবং ম্যাচ ৩-৩ সমতায় শেষ হয়।

শিরোপা দৌড়ে বড় ধাক্কা
এই ড্রয়ের ফলে সিটির টানা তিন জয়ের ধারা ভেঙে গেছে। তারা এখন আর্সেনালের থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে। আর্সেনালের হাতে তিনটি ম্যাচ বাকি। সিটির হয়ে ডোকু ম্যাচ শেষে বলেন, “এখন এটা বেদনাদায়ক। আজ আমরা দুই পয়েন্ট হারিয়েছি, কিন্তু আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”
এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস স্বীকার করেছেন যে দ্বিতীয় গোলের পর রক্ষণে বড় ভুল হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা পুরোপুরি কোণঠাসা ছিলাম। এক পয়েন্ট পাওয়া খারাপ নয়, কিন্তু ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া করা হতাশাজনক।”
এভারটনের জন্যও আফসোস
এভারটন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে ছিল। জয় পেলে তারা সপ্তম স্থান থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে চলে যেত। কিন্তু ড্রয়ের পর তারা ফুলহ্যাম ও চেলসির সঙ্গে সমান পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে নেমে গেছে।
ম্যাচটি প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত হবে। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচ ‘ফাইনাল’। অন্যদিকে আর্সেনাল নিজেদের খেলাগুলো জিতে শিরোপা নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েছে।
সিটির কোচ সম্ভবত এই ম্যাচ থেকে রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে গুরুতর চিন্তায় পড়বেন, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করার ঘটনা। হালান্ড ও ডোকুর ব্যক্তিগত দক্ষতা সিটিকে হার থেকে বাঁচালেও, টিম হিসেবে তাদের আরও উন্নতি দরকার।
