ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » গণশুনানি এড়িয়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

গণশুনানি এড়িয়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

নবপ্রকাশ ডেস্ক :

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা, অস্বাভাবিক খরচ এবং ২০০৩ সালের আইন লঙ্ঘন করে গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রশ্নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকেই কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গত ২৩ বছরেও জ্বালানির দাম নির্ধারণে আইন অনুযায়ী প্রবিধান তৈরি না হওয়া এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচে বড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সার্বিক বিষয়ে ফরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণের কথা থাকলেও ২৩ বছরেও কেন কোনো প্রবিধান তৈরি করা হয়নি—তা জানতে চেয়েছে কমিটি। তবে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। সম্প্রতি এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময়ও আইন অনুযায়ী গণশুনানি করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কমিটির আরেক সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে দেশে ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অথচ ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সত্যতা বিচারে ফরেনসিক অডিটের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজারে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চরম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বাজার নজরদারি অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া ভবনের ছাদে ৫০ মেগাওয়াটের সোলার প্যানেল প্রকল্পে যেখানে খরচের হিসাব ১৫০ কোটি টাকা হওয়ার কথা, সেখানে সরকারি প্রকল্পে ৩৫৫০ কোটি টাকার বেশি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি বিটিভি ও বাসসে ৩২টি গ্যাসকূপ খননের যে দাবি প্রচার করা হয়েছে, তা অসত্য কি না—তা আগামী বৈঠকে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত মাত্র ৩১ দিনের জন্য রয়েছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ১২,০২২ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট; কয়লাভিত্তিক ৬,৯২৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৫-৬ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক ৬,৪০৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে মাত্র ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

এদিকে, একই দিন অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে সংসদ মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়ন, চিকিৎসক-নার্স বাড়িয়ে অর্গানোগ্রাম সংশোধন এবং ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে