ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » তরুণদের ধরে সেনা বাহিনীতে বিক্রি: মিয়ানমারজুড়ে আতঙ্ক

তরুণদের ধরে সেনা বাহিনীতে বিক্রি: মিয়ানমারজুড়ে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামরিক বাহিনীতে মারাত্মক লোকবলসংকট মেটাতে এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের কোটা পূরণে এবার অপহরণ, জোরপূর্বক সেনাদলে ভর্তি এবং অর্থের বিনিময়ে তরুণদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় হস্তান্তরের (বিক্রি) মতো ভয়ঙ্কর বাণিজ্যে মেতে উঠেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যের হপা-আন শহর পর্যন্ত এই জবরদস্তিমূলক অভিযানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কিশোর ও তরুণরা।

বিবিসি বার্মিজের ফাঁস হওয়া এক বিশেষ নথির বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে সামরিক বাহিনীর সুনির্দিষ্ট নিয়োগ কোটা বাধ্যতামূলকভাবে পূরণের কড়া নির্দেশ দিয়েছে জান্তা। সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন এবং বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পরাজয় ও সেনাসদস্যদের পালানোর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে অভ্যুত্থানকারী সামরিক শাসক।

২০২৪ সালে কার্যকরের পর থেকে এই বাধ্যতামূলক সামরিক আইনে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের অন্তত দুই বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পর থেকে গত আড়াই বছরে আনুমানিক এক লাখ তরুণকে সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশকেই জবরদস্তিমূলক আটক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আনা হয়েছে।

মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এমডিএসআই) কর্মকর্তা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নাউং ইয়ে জানান, জান্তার সাদাপোশাকধারী সদস্য ও স্থানীয় দালাল চক্র রাতের আঁধারে বা পারিবারিক তালিকা যাচাইয়ের অজুহাতে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শারীরিকভাবে সক্ষম পেলেই তরুণদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা মা মোয়ে সান পানের একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগে জান্তার নিয়োগ বাণিজ্যের মূল চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর ৩৩ বছর বয়সী স্বামী ফিও ওয়াইকে স্থানীয় এক ওয়ার্ড প্রশাসন কার্যালয়ের মাধ্যমে অন্য একটি প্রশাসনিক ওয়ার্ডের কাছে মাত্র ৪০ লাখ কিয়াটের (প্রায় ৯০০ মার্কিন ডলার) বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়, যাতে ওই দ্বিতীয় ওয়ার্ডটি জান্তার দেওয়া সামরিক কোটা পূরণ করতে পারে। পরবর্তীতে প্রতারক চক্র তাঁর স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও ৪৫ লাখ কিয়াট হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে ওই তরুণের কোনো খোঁজ মিলছে না।

নির্ধারিত কোটা না মিললে অন্য এলাকা থেকে লোক এনে সেনা কোটা পূরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওয়ার্ড প্রশাসক উ মাউং মাউং লুইন, তবে তিনি সরাসরি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে কারেন রাজ্যের রাজধানী হপা-আনের রাস্তায় রাস্তায় এমন ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে যে, চাকরি বা জীবিকার তাগিদেও তরুণেরা বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। আটক এড়াতে হাজার হাজার তরুণ থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছেন। জোরপূর্বক অপহরণ ও অবৈধ নিয়োগের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক নিয়োগবিষয়ক কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে