ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইইডির শিমুল আকন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে

ইইডির শিমুল আকন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে

স্টাফ রিপোর্টার :

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম, তদবির ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে ইইডির ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল আকন্দের নাম। অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে অনেকেই তাকে “ইইডির আর্থিক ও রাজনৈতিক ম্যানেজার” হিসেবে আখ্যায়িত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিমুল আকন্দের পরিচয় কেবল একজন কর্মকর্তা বা সংগঠনের নেতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা, কখনো সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুসারী, কখনো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ঘনিষ্ঠজন, আবার কখনো বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাবশালীদের আত্মীয় পরিচয়েও নিজেকে উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিগত সরকারের সময় তিনি ছিলেন প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। সেই সময়ের বিতর্কিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর “ক্যাশিয়ার” হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পরও কৌশলে নিজের অবস্থান ধরে রেখে বর্তমানে ইইডির প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ডেক্স-১ এ দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে “পারিবারিকভাবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ” হিসেবে পরিচয় দিয়ে নতুন বলয়ে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ইইডির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিমুল আকন্দ নিজেকে কখনো সচিবদের আস্থাভাজন, কখনো রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন। এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি অধিদপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের অন্যতম বড় অংশজুড়ে রয়েছে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন আদায় এবং কমিশন নিয়ে দ্বন্দ্ব হলে সেই কাজ অন্য ঠিকাদারের কাছে সরিয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রো, সাভার, জামালপুর, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একাধিক প্রকল্পে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু ঠিকাদারের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কমিশন নিশ্চিত না হলে বিভিন্নভাবে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করা হয়। আবার কমিশন সমঝোতা হলে দ্রুত ফাইল অনুমোদন কিংবা কাজের সুযোগ তৈরি হয় বলেও দাবি তাদের।

ইইডির অভ্যন্তরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, শিমুল আকন্দের সঙ্গে সমন্বয় না করলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দূরবর্তী বা অপ্রত্যাশিত স্থানে বদলি করা হয়। আবার অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বদলি স্থগিত বা পছন্দের পদায়নও নিশ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের বদলি প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে শিমুল আকন্দের নাম ঘুরে ফিরে আসছে।
এছাড়া পদোন্নতি নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও আর্থিক সমঝোতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এতসব অভিযোগ ওঠার পরও বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, শিমুল আকন্দ বর্তমানে নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবেও উপস্থাপন করছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় রয়েছেন।

 

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে