নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাড়া ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি গুদাম সিজার লিস্টের মাধ্যমে সিলগালা করেছে মোতালিব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মোতালিব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল, মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে গুদামটির পুরোনো তালা ভেঙে ভেতরের মালামাল সিজার লিস্ট করে গুদামটি সিলগালা করে।
সমিতির দাবি, মাহাবুব রহমান বাচ্চু প্রায় দুই বছর ধরে গুদামটি ব্যবহার করলেও চুক্তি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেননি। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভাড়াও বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ১১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছে সমিতি।
মালিক সমিতি জানায়, পাওনা পরিশোধের জন্য মাহাবুব রহমান বাচ্চুকে সাতবার লিখিত নোটিশ ও চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে সমিতির বোর্ড সভায় গুদামটি খালি করে সিজার লিস্টের মাধ্যমে সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দোকান মালিক সমিতির কর্মকর্তা মুজাহিদ জানান, মাহাবুব রহমান বাচ্চু গুদামটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকে কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। তিনি বিভিন্ন সময় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাপসের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুদামটির তালা ভেঙে সিজার লিস্ট করে সিলগালা করা হয়েছে।
মোতালিব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. সেলিম জানান, মালিক সমিতির নির্দেশে সবার উপস্থিতিতে গুদামটির পুরোনো তালা ভেঙে ভেতরের মালামাল সিজার লিস্ট করা হয়। এ সময় গুদাম থেকে ২০৬টি গাড়ির টায়ার, ১৪টি কার্টন, ৪টি চেয়ার, ২টি পানির গ্লাস এবং ২টি টেবিল ফ্যান উদ্ধার করা হয়। এসব মালামাল সিজার লিস্ট করে মালিক সমিতির জিম্মায় রাখা হয়েছে।
মোতালিব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ আলম বলেন, মাহাবুব রহমান বাচ্চুকে একাধিকবার লিখিতভাবে পাওনা পরিশোধের জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাহাবুব রহমান বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে গুদামটি দখলে রেখেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং ভাড়াসহ মোট প্রায় ১১ লাখ টাকা তার কাছে পাওনা রয়েছে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে সিজার লিস্টে থাকা মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মালিক সমিতির দাবি, বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তারা এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়েছেন।
