প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারি ৬ ক্যাপিটল হামলার অভিযোগে ইমপিচমেন্ট মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার পাঁচ বছর পর লুইসিয়ানার রিপাবলিকান প্রাইমারিতে সিনেটর বিল ক্যাসিডি নিশ্চিতভাবে পরাজিত হয়েছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থিত দুই প্রার্থী ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়া লেটলো এবং স্টেট ট্রেজারার জন ফ্লেমিং রানঅফে উঠেছেন। রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জুন। শনিবারের প্রাইমারিতে ক্যাসিডি তৃতীয় স্থানে পড়ে যান। তিনি তাঁর বিরোধীদের সম্মিলিত খরচের প্রায় দ্বিগুণ খরচ করেও নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। এই পরাজয় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিতে অপ্রতিরোধ্য আধিপত্যের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদের শেষের দিকে এসে ট্রাম্প অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং কম অনুমোদন রেটিং সত্ত্বেও দলের মধ্যে ‘অবিশ্বস্ত’দের বিরুদ্ধে কঠোর শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন সকালে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাসিডিকে “অবিশ্বস্ত বিপর্যয়” এবং “ভয়ানক লোক” বলে আক্রমণ করেন। রাতে ফল ঘোষণার পর ট্রাম্প লেখেন, “এটাই হয় যখন কেউ নির্দোষ মানুষকে ইমপিচ করতে ভোট দেয়।” পরাজয় স্বীকার করে ক্যাসিডি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশ কোনো একক ব্যক্তির জন্য নয়। এটি সব আমেরিকানের কল্যাণ এবং সংবিধানের জন্য।” তিনি ২০২১ সালের ইমপিচমেন্ট মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তকে এখনও নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। অন্যদিকে বিজয়ী জুলিয়া লেটলো তাঁর বিজয় উৎসবে দুই শিশু সন্তানকে পাশে নিয়ে বলেন, “আমি একজন অত্যন্ত বিশেষ ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই— যিনি এ দেশের সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।” ক্যাসিডির ইমপিচমেন্ট ভোট প্রসঙ্গে লেটলো বলেন, “এটি ছিল লুইসিয়ানার ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার লক্ষণ।” বিল ক্যাসিডি ২০১৫ সাল থেকে লুইসিয়ানার সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বিশেষ করে ২০২১ সালের পর থেকে স্পষ্ট হয়। অন্য অনেক সিনেটর ট্রাম্পের বিরোধিতা করে পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও ক্যাসিডি লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু ট্রাম্পের এন্ডোর্সমেন্ট এবার জুলিয়া লেটলোর পক্ষে প্রবল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রিপাবলিকান পার্টিকে আরও বেশি করে তাঁর ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। লুইসিয়ানার রানঅফে লেটলো এবং ফ্লেমিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ট্রাম্পের প্রভাব আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনপি/আইডি
