আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা ও সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষিত বিবেচনা করে দেশটিতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তবে পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, এই মুহূর্তে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় রাজনৈতিক আলোচনা পর্ব ‘সানডে উইথ লরা কুয়েনসবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ওয়েস স্ট্রিটিং জানান, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে আকাশে যুদ্ধবিমান রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে। রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী হামলার পর এই সামরিক সহায়তার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে কি না—জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সহায়তার পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।” তবে কৌশলগত কারণে অতিরিক্ত সহায়তার সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বিমানবন্দর অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্ট্রিটিং বলেন, “সাধারণ নিরপরাধ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা কোনো পরিস্থিতি বা যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক হামলা জোরদারের ইঙ্গিত দিলেও, ব্রিটেন সেখানে কোনো সরাসরি সামরিক অভিযান বা যুদ্ধে জড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই পর্যায়ে আমরা সে ধরনের সরাসরি আক্রমণাত্মক কোনো সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছি না।”
তিনি জোর দিয়ে আরও পুনরুল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কোনো স্থায়ী সামরিক সমাধান হতে পারে না—যুক্তরাজ্য সব সময়ই এই নীতিগত অবস্থানে অটল রয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সৌদি আরবের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অক্ষুণ্ন রাখতে যুক্তরাজ্য লজিস্টিক বা প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা বজায় রাখলেও সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া থেকে বিরত থাকছে।
