নবপ্রকাশ ডেস্ক:
মাহীন পাটোয়ারী নাহিদ
রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের কী ক্ষতি করেছিলেন? সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে সামনে আনুন। তাঁর চিন্তা, বক্তব্য কিংবা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করুন। কিন্তু শুধু তিনি ভারতীয় কিংবা হিন্দু ছিলেন বলে তাঁর সাহিত্য ও অবদানকে অস্বীকার করার যুক্তি কী?
ভুলে গেলে চলবে না, ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথেরই লেখা—যে গান আজ স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসালের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর সাহিত্যজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে মুছে ফেলা যাবে না।
ভারতের আধিপত্যের বিরোধিতা করা আমাদের অধিকার। কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা কেমন যুক্তি? একটি দেশের সরকারের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সেই দেশের ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিটি ব্যক্তিত্বকে শত্রু ভাবতে হবে কেন?
রবীন্দ্রনাথ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাঁর ভুল থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সমালোচনা হোক। কিন্তু বিদ্বেষ দিয়ে ইতিহাস বিচার করা আর যুক্তি দিয়ে ইতিহাস বিচার করা এক নয়।
বাংলাদেশকে ভালোবাসতে রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসতেই হবে না; কিন্তু বাংলাদেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে ঘৃণা করতেই হবে—এমন কোনো যুক্তিও নেই।
দেশপ্রেম মানে ইতিহাস মুছে ফেলা নয়। দেশপ্রেম মানে সত্যকে জানা, মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং নিজের সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করা।
ইতিহাসের জবাব ইতিহাস দিয়ে দিন, বিদ্বেষ দিয়ে নয়।
