নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় পারিবারিক কলহ ও সন্দেহের জেরে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে চার টুকরা করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ওই নারীর নাম শিরিন আক্তার। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে তাঁর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী দুলাল হাওলাদারকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু।
ওসি মোহাম্মদ রাজু জানান, রোববার দিবাগত রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং খণ্ডিত লাশটি উদ্ধার করে। আটক দুলাল হাওলাদার পেশায় একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং নিহত শিরিন আক্তার গৃহিণী ছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে ধরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, রোববার দিনের কোনো একসময় নিজ বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিরিনকে হত্যা করেন দুলাল। হত্যার পর রক্তপাত ঢাকতে ও আলামত লোপাট করতে স্ত্রীর লাশ কেটে চার টুকরা করে একটি ব্যাগের ভেতর ভরে রাখেন তিনি। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে শিরিনের মাথা, গলা ও দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, নিহত শিরিন আক্তার দীর্ঘ সময় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ওই ভাড়া বাসায় স্বামী দুলালের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। প্রবাস থেকে ফেরার পর শিরিন মুঠোফোনে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছেন বা পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছেন—এমন তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে স্বামী দুলালের মনে। এ বিষয় নিয়ে গত দুদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য কলহ ও ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে। সেই ক্ষোভ ও মানসিক উত্তেজনার চরম পর্যায়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
বর্তমানে নিহত শিরিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ ঘটনার আরও গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
