আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখার পর অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের অপর দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত। এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভালো আচরণ করার শর্তে ৫০ হাজার রুপি জামিনদার বন্ডের বিনিময়ে আদালত তাঁদের মুক্তির আদেশ দেন।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করে দিল্লিতে অবতরণকারী উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই অভিজিৎ দীপকেসহ ৩ নেতাকে প্রতিরোধমূলক আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছিল সিজেপি। সেই আন্দোলন ভন্ডুল করতে শনিবার পুরো রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। শহরজুড়ে অভিযান চালিয়ে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও তরুণ অ্যাক্টিভিস্টসহ অন্তত তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়, যাদের বড় একটি অংশকে শনিবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও ছিলেন।
মুক্তির পর সিজেপির নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া ও ভোট কারচুপির পরিষ্কার জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথের আন্দোলন থামাবেন না। রাজধানীতে জনসমাগম ও প্রতিবাদ রুখতে বিজেপি সরকার ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমাতে শনিবার দিল্লি মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ আদালতে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ শনিবারের বিক্ষোভের আগে মেট্রো পরিষেবা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই আদেশ অমান্য হওয়ায় রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে চলছে তুমুল বাকযুদ্ধ। বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকের গড়ে তোলা এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনটিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বিরোধী দল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির ‘বি-টিম’ এবং ‘বিদেশি শক্তির এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের হাতিয়ার বলে কটাক্ষ করেছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্যে বলেন, “গণতন্ত্রে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার থাকলেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। জেন-জি তরুণেরা সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হলেও তাঁদের দেশপ্রেম অক্ষুণ্ণ থাকবে।”
তবে শাসকদলের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থনে রাজপথে অবস্থান ধরে রাখা সিজেপির এই আন্দোলন আসন্ন রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনের আগে ভারতের রাজনৈতিক রাজনীতিকে পুরোপুরি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
