আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রাক্কালে পুলিশি ধরপাকড়ের শিকার জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) তাকে আটকের কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না দাবি করে তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদাপোশাকের একদল লোক তাঁকে মূলত ‘অপহরণ’ করেছিল এবং পরবর্তীতে গুরুগ্রাম পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে প্রকাশিত এক পোস্টে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠি।
ওই পোস্টে তিনি বলেন, “আমি নিজে বিক্ষোভে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার আগেই তারা আমাকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে জানতে পেরেছি, আমার বাড়ির বাইরে অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান করছিলেন। একজন দুর্ধর্ষ অপরাধীর মতো আমাকে আমার নিজের বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।”
উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ধ্রুব রাঠির। তবে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ধরপাকড় চালায় পুলিশ। শনিবারের ওই অভিযানে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষকসহ কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ধ্রুব রাঠিও ছিলেন। ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আটক রাখার পর রোববার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে, সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে দিল্লি পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের পূর্বঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা অমান্য করে ধ্রুব রাঠি যদি ভবিষ্যতে ফের এ ধরনের প্রতিবাদ বা যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
