আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ দেখা গেছে। উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
শুক্রবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সংঘর্ষ হয়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স ও তাসনিম জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির চিমনিতে আঘাত করে সেগুলোকে ফিরিয়ে দেয়।
একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহে মার্কিন ঘাঁটি সম্বলিত উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ আটকে আছে
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যার সঙ্গে পরবর্তীতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। রোমে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তেহরানের উত্তরের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তবে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনও প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অভিযোগ করেন, “প্রতিবার কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুললেই যুক্তরাষ্ট্র অসতর্ক সামরিক অ্যাডভেঞ্চার বেছে নেয়।”
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে একজন নিহত, ১০ জন আহত এবং ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন।
প্রসঙ্গক্রমে
যুদ্ধ শুরু হয় ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে। এরপর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইরান নৌ-অবরোধ অনেক মাস ধরে সহ্য করতে সক্ষম। তবে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত সিআইএ’র প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং কিছু দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি পুরো অঞ্চলকে আবার পূর্ণ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ববাসী এখন তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
