ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে মতভিন্নতা স্পষ্ট

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে মতভিন্নতা স্পষ্ট

নবপ্রকাশ ডেস্ক:
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে তাতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কীভাবে অগ্রসর হওয়া দরকার সে বিষয়ে দুই নেতার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতার মধ্যে এটাই প্রথম কথোপকথন নয়। এর আগে রোববারও তারা ফোনে কথা বলেছিলেন। সেসময় ট্রাম্প দিনকয়েকের মধ্যেই ইরানে নতুন হামলার দিকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রসর হচ্ছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বলেছেন ওই কর্মকর্তা।

ট্রাম্প যে ইরানে নতুন হামলার কথা বিবেচনা করছেন তা আগেই জানিয়েছিল সিএনএন। তবে এবার ওয়াশিংটন ইরানে কোনো অভিযানে গেলে তা নতুন নাম পেতে পারে। এ নাম হতে পারে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’, বলেছিল মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটি।

কিন্তু রোববারের ওই ফোনালাপের ২৪ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ইরানে মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ফল বের করতে উপসাগরের দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্বন্ধে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে জানিয়েছেন।

“ইরানে আমরা চূড়ান্ত পর্বে রয়েছি। দেখা যাক কী ঘটে।

“হয় আমরা একটি চুক্তি পাবো নয়তো আমরা এমন কিছু করবো যা খানিকটা নোংরা ধরনের। আশা করছি তেমন কিছু করতে হবে না,” বুধবার সকালে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আবার ওয়াশিংটন-তেহরান এ চলমান আলোচনায় ‘হতাশ’, তিনি চান ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরও আগ্রাসী’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হতে। এক্ষেত্রে যত দেরি করা হবে, ততই ইরানের লাভ হবে—নেতানিয়াহু এ যুক্তি দিচ্ছেন বলে ভাষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর।

সিএনএনকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু তার ‘হতাশা’ মঙ্গলবার ব্যক্ত করেছেন; ট্রাম্পকে বলেছেন, হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল হবে বলেই তিনি মনে করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া।

ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ শুরুর জন্য জোর তদবির চালান বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত এক ইসরায়েলি সূত্রও জানিয়েছে।

এই ফোনালাপে দুজনের মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে—ট্রাম্প চাইছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কিনা তা দেখতে, নেতানিয়াহু প্রত্যাশা করছেন অন্য কিছু, বলেছেন ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের জন্য সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দিক থেকে সাড়া পায়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মঙ্গলবারের এই ‘উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ’ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস।

ওই ফোনালাপের পর ইসরায়েলের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর আশপাশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে আরেক ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে বলেছে।

ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ট্রাম্প তেহরানকে কূটনৈতিক পর্যায়ে অবস্থান আরও পোক্ত করার সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, বলেছে সূত্রটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেতানিয়াহুর হতাশা নতুন নয়। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যে ভিন্নতা রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

আগের রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কী বলেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এ বিষয়ে চালকের আসনে তিনিই আছেন।

“তিনি (নেতানিয়াহু) তা-ই করবেন, যা আমি চাইবো,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফের যুদ্ধে নামতে চাইলেও ট্রাম্প যে চুক্তির জন্য ইরানকে আরও কয়েকদিন সময় দিতে আগ্রহী, বুধবারের ভাষ্যে তাও স্পষ্ট হয়েছে।

একইদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাদের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট নুর নিউজকে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করে যাচ্ছে।

“ইরানের দেওয়া প্রাথমিক ১৪ দফার ভিত্তিতে একাধিকবার বার্তা বিনিময় হয়েছে, আমরা মার্কিনিদের মতামত পেয়েছি এবং এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেছেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি।

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে যেসব মতবিরোধ রয়েছে তার কোনোটিতেই কয়েকদিন আগ পর্যন্তও কোনো পক্ষকে ছাড় দিতে দেখা যায়নি।

আর ট্রাম্পও বারবার বলে গেছেন, যে কোনো মুহূর্তে তারা সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিতে পারেন।

“যদি আমরা সঠিক উত্তর না পাই, খুব দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে। আমরা শুরু করার জন্য প্রস্তুত,” বুধবারও এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে