স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির মায়ামির জয়হীন যাত্রা বা পিএসএল-এর উত্তেজনার মাঝেই স্প্যানিশ লা লিগায় নাটকীয় মোড় নিল শিরোপার লড়াই। রবিবার রাতে এস্পানিওলের মাঠে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার লিগ শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও বাড়াল লস ব্লাঙ্কোসরা।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় রিয়াল মাদ্রিদ। ৫৫ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ডি-বক্সের ভেতর এস্পানিওলের দুই ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। এর ঠিক ১১ মিনিট পর, ৬৬ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের এক চমৎকার ব্যাক-হিল পাস থেকে বল পেয়ে টপ কর্নারে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। বেলিংহ্যামের অ্যাসিস্ট এবং ভিনিসিয়াসের ফিনিশিং আবারও প্রমাণ করল কেন তাঁরা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা জুটি।
শনিবার বার্সেলোনা ওসাসুনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। রবিবার রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট হারালেই বার্সার ২৯তম লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু এই জয়ের পর লিগের শেষ ৪ রাউন্ডে বার্সেলোনার লিড এখন ১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহান্তে ক্যাম্প ন্যু-তে হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ‘এল ক্লাসিকো’ ম্যাচেই বার্সেলোনা শিরোপা নিশ্চিত করার চূড়ান্ত সুযোগ পাবে।

রিয়ালের কাছে হেরে এস্পানিওল টানা ১৭ ম্যাচ জয়হীন থাকার লজ্জাজনক রেকর্ডে নাম লেখাল। বর্তমানে তারা লিগ টেবিলের ১৩তম স্থানে থাকলেও রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র ৫ পয়েন্ট দূরে রয়েছে। হাতে থাকা ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে না পারলে তাদের জন্য লিগে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
এই ম্যাচটি ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত স্মরণীয় ছিল, কারণ তিনি মাঠে ৮টি ফাউলের শিকার হয়েও তাঁর মেজাজ হারাননি এবং ম্যাচে ১০-এ ১০ রেটিং পেয়েছেন। রিয়ালের জন্য এই জয়টি মানসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে সামনের সপ্তাহে বার্সেলোনার মাঠে নামার আগে। অন্যদিকে, এস্পানিওলের গোলরক্ষক দিমিত্রোভিচ বেশ কিছু সেভ না করলে পরাজয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
ম্যাচের ফলাফল:
এস্পানিওল: ০
রিয়াল মাদ্রিদ: ২ (ভিনিসিয়াস জুনিয়র ৫৫’, ৬৬’)
ভেন্যু: আরসিডিই স্টেডিয়াম (RCDE Stadium)
