নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: দেশের অন্যতম সড়ক পরিবহন ইমাদ পরিবহন (প্রা:) লিমিটেড। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ, পাটগাতি, পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, খুলনা, সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: অঙ্গপ্রতিষ্ঠান “ইমাদ পরিবহন (প্রা:) লিমিটেড”-এর মাধ্যমে সাতক্ষীরা/খুলনা থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে চলাচল করে থাকে। দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এই মালিকানাধীন পরিবহনের কয়েকশ কাউন্টার থাকলেও অধিকাংশ কাউন্টার চলে কমিশনের মাধ্যমে। তবে অধিকাংশ কাউন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই যার ফলে যাত্রীদের পড়তে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে। বিশেষ করে নারী যাত্রীরা বেশি সমস্যায় ভোগেন।
সম্প্রতি এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন প্রতিবেদক নিজেও। ১ আগষ্ট শনিবার ঢাকা গুলিস্তান কাউন্টার থেকে সন্ধ্যা ৬ টার বসে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এর তেঘরিয়া কাউন্টার ২ এর সামনে মাগরিবের নামাজের বিরতি নেয়। যাত্রীরা কাউন্টারের টয়লেট ব্যবহার করতে গেলে দেখা যায় টয়লেটের দরজা তালাবদ্ধ। কাউন্টারের পরিবর্তে পাশের মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করতে বলে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পাশের মসজিদটি নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানেও পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই। এছাড়া মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করতে অনিহা দেখা যায় নারী যাত্রীদের মাঝে।
নুহা নামের একজন যাত্রী প্রতিবেদককে বলেন, মসজিদের টয়লেট ব্যবহার নারীদের জন্য অশোভনীয় সেখানে বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে নির্মাণাধীন মসজিদের টয়লেটে। এমন অবস্থা হলে নারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাবির নামে আরেক যাত্রী জানান, আমি ইমাদের রেগুলার যাত্রী আমিও বেশ কয়েকবার একই পরিস্থিতি পড়েছি। মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করতে গেলে দিতে হয় ১০ টাকা। এটা কি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি নিতান্তই ব্যবসায়ের কোনো পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান তিনি।
বিথি নামে আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, এত টাকা দিয়ে আমরা টিকিট কাটি তবুও পর্যাপ্ত পরিষেবা পাচ্ছিনা।
যাত্রীদের অভিযোগের পর একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন প্রতিবেদক নিজেও।
উল্লেখ্য যে গুলিস্তান প্রধান কাউন্টারেও একই অবস্থা। যাত্রী সাধারণকে টাকার বিনিময়ে যেতে হয় পাবলিক টয়লেটে।
এবিষয়ে অভিযোগ জানতে ইমাদ পরিবহনের তথ্য ও অভিযোগের নম্বর: +8801700791979 এই নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি। অপরপ্রান্ত থেকে ফোন রিসিভ করেননি কেউ।
দেশের পরিবহন শিল্পের এই বেহাল দশা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই। পরিবহন সেবা কি শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি।
