নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের চাঞ্চল্যকর মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজন আসামিকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা দুটি একসঙ্গে চলায় আসামিদের প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অবৈধ দুটি প্লটও বাজেয়াপ্ত ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামি হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং বেআইনিভাবে প্লট সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ী শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
দুদকের পাবলিক প্রসিউটর (পিপি) খন্দকার শামীম হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধির নির্ধারিত দুই ধারায় আসামিদের এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে— ১. অপরাধমূলক অসদাচরণ: এই ধারায় আট আসামির প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়; অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ: এই ধারায় আসামিদের একইভাবে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; যা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড পোহাতে হবে।
আইন অনুযায়ী দুই ধারার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর বা ‘কনকারেন্টলি’ চলবে বলে মূল কারাদণ্ডের মেয়াদ হবে ৭ বছর।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সকলেই পূর্বে জামিনে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে মঙ্গলবার তারা আদালতে অনুপস্থিত থাকেন। আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক জামিন বাতিল করে তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে চরম ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তাঁরা বৈধ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ী আশফাক আজিজ রুবেল ও শওকত আজিজকে অনৈতিক লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠার দুটি দামি বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট বরাদ্দ দেন।
এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের অপর কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম। ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে প্রাতিষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন আদালত। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
