মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে কাটতে শুরু করেছে তীব্র গ্যাস সংকট। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় বাসাবাড়ি ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ পুনর্দখল হতে শুরু করেছে। ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা তামান্না বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস ছিল না। রান্না করতে খুবই ঝামেলা হয়েছে। আজ সকালে গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে দেখলাম৷ রান্নায় আগের চাইতে একটু স্বস্তি ফিরেছে৷ শাহবাগে সিএনজি অটোরিকশা চালক ইকরাম হোসেন বলেন, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটে ছিলাম৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পেতাম না। আজ কষ্ট কিছুটা কম হলো৷ যা গ্যাস নিয়েছি আজকের দিন চলে যাবে৷ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ কম রয়েছে এবং পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান শেষে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। এর ফলে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এর আগে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে রাজধানীসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। অনেক বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ভোগান্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত এবং বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার সৃষ্টি হয়।এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার গ্যাস সংযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে সারাদেশে গ্যাসের চাপও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে ফিরে আসবে।
