নবপ্রকাশ ডেস্ক:
মধ্য আফ্রিকার সংঘাত-কবলিত দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-তে নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯ শতাধিক সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার পর ব্যাপক সংখ্যক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০১ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও নতুন করে মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে, গত ২৩ মে প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির তিনটি প্রদেশে ৮৬৭টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনায় অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। এবারের সংক্রমণ ছড়িয়েছে ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস থেকে, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট কার্যকর চিকিৎসা নেই। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ঘাম, লালা কিংবা শরীরের অন্যান্য তরল পদার্থের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে আক্রান্তদের শরীরে তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগীর বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর চলমান সংঘাত, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্গম অঞ্চলে চিকিৎসা পৌঁছাতে না পারায় ইবোলা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত অর্ধশতকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কঙ্গো ও পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
