নবপ্রকাশ ডেস্কঃ
বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়াকে (২৬) ফ্লোরিডার একটি আদালতে হাজির করা হয় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন দুই শিক্ষার্থীর বন্ধু ও সহপাঠীরা। তারা বলেছেন, এখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাই তাদের পরিবার। সেই পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় তারা মর্মাহত।
শুনানিতে উপস্থিত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই শিক্ষার্থী সালমান সাদিক শুভ ও রিফাতুল ইসলাম। ভুক্তভোগী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে শুভর পরিচয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর। তিনি লিমনকে ‘নম্র ও ভদ্র ছেলে’ এবং বৃষ্টিকে ‘মিষ্টি হাসির মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শুভ বলেন, লিমন ও বৃষ্টি দুজনের সঙ্গেই তাঁর বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ফ্লোরিডায় তারা এক ধরনের পরিবারের মতো বসবাস করতেন। শুনানিতে উপস্থিত থাকা আরেক শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে তারা নিরাপদ জায়গা ও বাড়ির মতো মনে করতেন। সেখানে লিমন-বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় তিনি মর্মাহত।
রিফাতুল বলেন, ‘বাড়ি (বাংলাদেশ) থেকে যখন ৮ হাজার মাইল দূরের এখানে (ফ্লোরিডা) আসি, তখন তারাই (লিমন-বৃষ্টি) আমাদের পরিবার হয়ে যায়। আমরা সব অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা করি, একসঙ্গে খেয়েছি।’ রিফাতুল আরও বলেন, ‘আমরা এখন ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছি। এখানকার আইনি ব্যবস্থার ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে।’
ইউএসএফ-এর আরেক শিক্ষার্থী হাসিব সৌরভও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ) সমন্বয়ের কাজ করছে। ইসলামি রীতিতে লিমনের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
শুনানিতে আদালত হিশাম আবুগারবিয়ার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে দুজনকে হত্যা, অবৈধভাবে মরদেহের অংশ বিশেষ সংরক্ষণ, প্রমাণ নষ্ট করাসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে গত সোমবার হিশামের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি নিউজ। তখন তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
