ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পরও থামেনি আয়

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পরও থামেনি আয়

বিনোদন ডেস্ক

১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারিতে জন্ম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসনের। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে গান, নাচ, পোশাক ও মিউজিক ভিডিওতে নিজের স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ‘কিং অব পপ’ হিসেবে।

২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। জীবনের শেষ সময়ে ব্যক্তিগত ও আইনি নানা জটিলতার পাশাপাশি তার ওপর ছিল বিপুল ঋণের চাপ। কিন্তু মৃত্যুর পর তার আর্থিক গল্প বদলে যায় পুরোপুরি।

মাইকেলের মৃত্যুর পর তার এস্টেট থেকে গান, সংগীতের স্বত্ব, সিনেমা, মঞ্চ প্রযোজনা, লাইভ শো ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আয় হয়েছে। ফোর্বসের হিসাবে, ২০০৯ সালের পর থেকে তার এস্টেটের আয় ৩৫০ কোটি ডলারেরও বেশি। ২০২৫ সালে মৃত তারকাদের আয়ের তালিকাতেও শীর্ষে ছিলেন তিনি। ওই বছরই তার এস্টেট আয় করে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

মৃত্যুর সময় মাইকেলের দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তার হাতে থাকা সংগীতের স্বত্ব ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ছিল বিশাল। মৃত্যুর পর এস্টেটের ব্যবস্থাপকেরা এসব সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেন।

এর বড় উদাহরণ ‘This Is It’ কনসার্টের মহড়া নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র। মাইকেলের মৃত্যুর কারণে কনসার্টটি আর অনুষ্ঠিত না হলেও তার প্রস্তুতির দৃশ্য নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি ২০০৯ সালে মুক্তি পায়। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি ২৬ কোটির বেশি ডলার আয় করে। পরে এর সংগীত, ডিভিডি ও অন্যান্য পণ্য থেকেও রাজস্ব আসে।

মাইকেলের আর্থিক সাফল্যের আরেকটি বড় ভিত্তি ছিল সংগীতের স্বত্বে তার বিনিয়োগ। ১৯৮৫ সালে প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে ATV মিউজিক ক্যাটালগ কেনেন তিনি। এতে প্রায় চার হাজার গানের স্বত্ব ছিল, যার মধ্যে দ্য বিটলসের বেশ কিছু জনপ্রিয় গানও ছিল।

পরবর্তী সময়ে এই ক্যাটালগের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে মাইকেলের এস্টেট সনির কাছে নিজেদের অংশ প্রায় ৭৫ কোটি ডলারে বিক্রি করে। এরপর ২০২৪ সালেও মাইকেলের নিজস্ব সংগীত, মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকার-সংক্রান্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব প্রায় ৬০ কোটি ডলারে বিক্রি করা হয়। ওই চুক্তির পর মাইকেলের সংগীতসম্পদের মূল্য প্রায় ১২০ কোটি ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

তার সংগীতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মঞ্চ প্রযোজনাও। ‘MJ: The Musical’ মাইকেলের জীবন ও গানকে কেন্দ্র করে দর্শকদের সামনে নতুনভাবে তার গল্প তুলে ধরছে। পাশাপাশি লাস ভেগাসে Cirque du Soleil-এর ‘Michael Jackson ONE’ শোতেও নিয়মিত উপস্থাপন করা হচ্ছে তার গান ও নৃত্য।

মাইকেলের ‘Thriller’, ‘Billie Jean’, ‘Bad’ ও ‘Man in the Mirror’-এর মতো গান এখনো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে পুরোনো গান থেকেও নতুন করে রয়্যালটি আসছে। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তার সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এসব গানের বাণিজ্যিক মূল্য দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে।

তার জীবন নিয়ে নির্মিত জীবনীভিত্তিক সিনেমা ‘Michael’ও নতুন প্রজন্মের কাছে তার গল্প পৌঁছে দেওয়ার আরেকটি মাধ্যম হয়েছে। অঁতোয়ান ফুকুয়া পরিচালিত ছবিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তার আয় অব্যাহত থাকার পেছনে শুধু গানের জনপ্রিয়তাই নয়, তার রেখে যাওয়া সম্পদের কৌশলগত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। সংগীতের স্বত্ব, সিনেমা, মঞ্চ প্রযোজনা, লাইভ শো ও লাইসেন্সিং—বিভিন্ন খাতে তার নামকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।

ফলে জীবদ্দশায় ঋণের চাপ থাকলেও মৃত্যুর পর মাইকেল জ্যাকসনের নামই পরিণত হয়েছে বিশাল এক অর্থনৈতিক সম্পদে। কয়েক প্রজন্মের ভক্তদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এবং সংগীতের স্থায়ী আবেদন সেই আয়ের ধারাকে এখনো সচল রেখেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে