ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা: ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা: ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে যখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির চেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা সচল থাকার পরও ইরানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ নতুন সামরিক বিমান হামলার (Military Strikes) চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও নীতিগত সিদ্ধান্তের সাথে সরাসরি যুক্ত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ (CBS News) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

ছেঁটে ফেলা হলো মেমোরিয়াল ডে-র ছুটি, হোয়াইট হাউসে ফিরছেন ট্রাম্প
চলতি সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের অনুষ্ঠান নির্ধারিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন, “সরকারের অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণে” তিনি এই বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিউ জার্সিতে নিজের গলফ প্রোপার্টিতে ‘মেমোরিয়াল ডে’ (Memorial Day) এর ছুটি কাটানোর কথা থাকলেও, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসছেন।

 

 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার (Intelligence Community) শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই তাঁদের মেমোরিয়াল ডে-র ছুটি বাতিল করে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির জন্য সদর দপ্তরে যোগ দিয়েছেন।

 

ইরানের পাল্টা আঘাতের শঙ্কা ও সতর্কতা
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Pentagon) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত (Retaliation) হানে, তবে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য থিয়েটার বা রণক্ষেত্র থেকে অতিরিক্ত কিছু ট্রুপস বা সেনা সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। বিদেশের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি কন্টিনজেন্সি বা রিকল রোস্টার (Recall Rosters) আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।

 

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের শুরুতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর বড় ধরণের হামলা থেকে বিরত ছিল। এই বিরতিতে মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির জন্য পরোক্ষ আলোচনা (Indirect Talks) চলছিল, যা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।

 

ট্রাম্পের ‘রেডলাইন’ ও পরমাণু নিষেধাজ্ঞা
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন: ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Enriched Uranium) নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না।”

 

কেলি আরও যোগ করেন, “কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্টের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পেন্টাগন সবসময় প্রস্তুত থাকে। ইরান যদি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণতি কী হতে পারে—সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আগে থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছেন।”

 

ইরানের ‘স্মরণকালের ভয়াবহ’ হামলার হুমকি
এদিকে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। গত বুধবার এক কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা চালানো হলে এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

 

ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যদি কোনো দুঃসাহস দেখানো হয়, তবে এমন সব জায়গায় এবং এমনভাবে ‘বিধ্বংসী আঘাত’ (Crushing Blows) হানা হবে যা ওয়াশিংটন বা তেল আবিব কল্পনাও করতে পারবে না।”

 

প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য:
১. ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ফোরদো প্ল্যান্টে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণ ৬০% পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদানের অত্যন্ত কাছাকাছি। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে।
২. ইসরায়েলি লবি ও চাপ: তেল আবিবের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে যাতে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সময় নষ্ট না করে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
৩. বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা: ওমান উপসাগরে নতুন করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার খবরের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (Brent Crude) দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে