ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » বাংলাদেশের সংকট উত্তরণে পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

বাংলাদেশের সংকট উত্তরণে পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের পৃথক পৃথক ফলপ্রসূ বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চীনের এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও সার্বিক জ্বালানি খাতে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারত্ব বাড়াতে তীব্র আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করতে আগামী সপ্তাহে চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশেষ কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে এফডিআই ও সমতার ওপর জোর

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বহুগুণ বাড়িয়েছি। এত বড় আমদানির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা অনুদান ও বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তার ন্যায্য অধিকার দাবি করেছি, যাতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পেয়েছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অভিঘাত। প্রথাগত সার্বভৌম ঋণের ওপর অনিয়ন্ত্রিত নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ও ইকুইটি ইনভেস্টমেন্টে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউএস ট্রেজারি ও বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সহযোগীরা সরকারের এই স্বচ্ছ সংস্কার কর্মসূচির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এসব সহায়তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ফুটে উঠবে।”

তিনি আরও জানান, মূল্যস্ফীতির কড়া নেতিবাচক প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানা চালু করা এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ঢালাও ভর্তুকি কমানোর তাগিদ আইএমএফের

এদিকে বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘ফিসক্যাল মনিটর’ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মমুখী দক্ষতার ওপর বিপুল বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সাথে মানিয়ে নিতে তরুণদের পুনঃপ্রশিক্ষণ জরুরি, অন্যথায় এই জনমিতিক সুযোগ উল্টো সামাজিক ও অর্থনৈতিক বড় চাপে পরিণত হতে পারে। একই সাথে ধনীদের কাছে সুফল পৌঁছানো ‘ঢালাও ভর্তুকি’ কমিয়ে নির্দিষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক সুরক্ষা বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে