ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » দুই যুগের লড়াইয়ে ক্রিকেটে টাইগারদের উত্থানের গল্প

দুই যুগের লড়াইয়ে ক্রিকেটে টাইগারদের উত্থানের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলেছিল। তখন অনেকের চোখেই বাংলাদেশ ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নবীন এক দল। কিন্তু দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এখন লাল বলের ক্রিকেটে টাইগাররা নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে।

 

 

সাম্প্রতিক পাকিস্তান সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ক্লিনসুইপের পর বাংলাদেশের টেস্ট রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করলেও ধীরে ধীরে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত হচ্ছে টাইগাররা।

 

সামগ্রিক টেস্ট রেকর্ড (মে ২০২৬ পর্যন্ত)

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ১৫৭ থেকে ১৫৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ২৬ থেকে ২৭টিতে। পরাজয় ১১২টি এবং ড্র হয়েছে ১৯টি ম্যাচ। এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট টাই হয়নি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জয়ের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৫৬ শতাংশ থেকে ১৭.৩১ শতাংশের মধ্যে। সংখ্যাটা এখনও বড় দলগুলোর তুলনায় কম হলেও সাম্প্রতিক কয়েক বছরে টাইগারদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতির ছাপ স্পষ্ট।

 

 

প্রতিপক্ষভেদে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের জয় ৯টি, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে রয়েছে ৫টি জয়। আর আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে বাংলাদেশ শতভাগ সফল—৩ ম্যাচেই জয় পেয়েছে টাইগাররা।

 

সবচেয়ে আলোচিত অগ্রগতি এসেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে। ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস গড়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার পাকিস্তানকে সিরিজে হারানোকে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে এখনও কোনো টেস্ট জয় পায়নি বাংলাদেশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল অথবা নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষেও জয়ের সংখ্যা খুবই কম।

 

ব্যক্তিগত রেকর্ডে যারা উজ্জ্বল

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তিনি ৬৫০০-এর বেশি রান করেছেন এবং বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। তার ২১৯* রান এখনও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

বোলিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনার বাংলাদেশের হয়ে প্রায় ২৫০ উইকেটের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এবং টেস্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

 

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৬৩৮ রান, যা এসেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। অন্যদিকে সবচেয়ে হতাশার রেকর্ড ৪৩ রান অলআউট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

 

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় আসে ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেই জয় ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আসে প্রথম অ্যাওয়ে টেস্ট জয়, যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয় এবং ২০২৬ সালে ঘরের মাঠে ক্লিনসুইপ—এই দুই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ এখন আর কেবল অংশগ্রহণকারী দল নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।

 

স্পিনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

হোম কন্ডিশনে স্পিন-নির্ভর বোলিং আক্রমণ এখন বাংলাদেশের বড় শক্তি। দেশের উইকেট, অভিজ্ঞ স্পিনার এবং ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে টাইগাররা ধীরে ধীরে শক্তিশালী দলগুলোর জন্যও কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে। যদিও বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ, তবু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে—বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট আর আগের জায়গায় নেই। ধীরে ধীরে তারা তৈরি করছে নিজেদের নতুন ইতিহাস।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে