ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » বড় ছেলের শেষ বিদায়, ছোট ছেলের অপেক্ষাতেই চলে গেলেন নাসিমা খান

বড় ছেলের শেষ বিদায়, ছোট ছেলের অপেক্ষাতেই চলে গেলেন নাসিমা খান

বিনোদন ডেস্ক:

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী যুগের প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা করানোর পর সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ঘটে তাঁর জীবনাবসান।

মৃত্যুকালে দুই ছেলেকে রেখে গেছেন ষাটের দশকের এই নন্দিত অভিনেত্রী। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এবং ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল বিগত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁর সন্ধান অদ্যাবধি মেলেনি। ছোট ছেলেকে একনজর না দেখার গভীর মানসিক যন্ত্রণা বুকে চাপেই চিরবিদায় নিলেন এই গুণী অভিনেত্রী। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় ছেলে শাবাব দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “নাসিমা খান ম্যাডামের বড় ছেলে আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন। লাশ ফ্রিজিং গাড়ি থেকে নিয়ে আমরা আজিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) বাদ জোহর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে ওই কবরস্থানেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।”

এর আগে রবিবার রাতে উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে মরদেহ মারকাজুলে নিয়ে গোসল করানোর পর হিমঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল, যাতে প্রবাসে থাকা ছেলে ফিরে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রদেয় অবদান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের একেবারেই শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে বিশ্বখ্যাত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেন।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষার চলচ্চিত্রে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্র রূপায়ণে নৈপুণ্য ও সহজাত অভিনয়ে জয় করেছেন লাখো দর্শকের হৃদয়। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন শেষে ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাঁকে সর্বশেষ পর্দায় দেখা গিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে একটি সোনালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে