নিজস্ব প্রতিবেদক: হামের টিকার সংকটে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাবের কারণে দেশে হামের টিকা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলেও দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেশে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে জনস্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, জাতিসংঘের অধীনে জুলাই ২০২৪-এর কোটা আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাজনৈতিক কারণে আটক রাজবন্দিদের মুক্তি এবং সকল রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত, আইসিটি আইনে হয়রানিমূলক বিচার বন্ধ এবং সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সহযোগিতায়, টুটুল দাসের তত্ত্বাবধানে এবং সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও গবেষক এম রহমানের ব্যবস্থাপনায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, “গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সংকট আরও গভীর হবে।”
মানববন্ধন থেকে ঘোষিত ১০ দফা দাবি:
১.হামের টিকা সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. জনস্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।
৩. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে জুলাই ২০২৪-এর কোটা আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।
৪. গুম, খুন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৬. সকল রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৮. তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।
৯. আইসিটি আইনে হয়রানিমূলক বিচার ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
১০. দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
