নবপ্রকাশ ডেস্ক :
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর আসন। আসনটিকেই বলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর ‘ঘরের মাঠ’। তিনি এবারও সেখান থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। খবর বিবিসি।
এবারের নির্বাচনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জীর মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও শুভেন্দু একই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে এ দুই হেভিওয়েট মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই আসনে পরাজিত হন মমতা ব্যানার্জী। ফলে এবারের ভবানীপুর লড়াইকে অনেকেই সেই ঘটনারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, রুট মার্চ এবং তল্লাশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
ভোটের আগের দিন থেকেই বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে; বিশেষ করে নদীয়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ সকাল ৭টা থেকে। তার আগে ভোর ৫টা থেকে ‘মক পোলিং’ সম্পন্ন করা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেভোটগ্রহণ যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় ।
এ দফায় পশ্চিমবঙ্গে মোট ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে। এর আগে ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। মোট ২৯৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
প্রথম দফার ভোটে ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়ে, যা কমিশনের মতে নজিরবিহীন। সেখানকার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ভোটে দক্ষিণবঙ্গের অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলের ১৪২ আসনের মধ্যে ১২৩টি পেয়েছিল তৃণমূল, আর বিজেপি জিতেছিল ১৮টি।
এছাড়া দ্বিতীয় দফার ভোটে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত গোষ্ঠীটি তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরেই বিভক্ত। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জী ও শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পুরো দ্বিতীয় দফার ভোট ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
