স্পোর্টস ডেস্ক:
ভারতের বিপক্ষে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠের মধ্যে মেজাজ হারিয়ে অসংযত ও উগ্র আচরণ করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শাস্তির মুখে পড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ব্যাটসম্যান রভম্যান পাওয়েল ও শেরফান রাদারফোর্ড। আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুজনকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি তাঁদের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে একটি করে ক্ষতিকর ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দুটি ঘটে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিসি দুই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। দুজনের বিরুদ্ধেই লেভেল-১ মাত্রার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
আইসিসির প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, রভম্যান পাওয়েল আচরণবিধির ২.২ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যা ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম বা মাঠের অবকাঠামোর অপব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ভারতের গতি তারকা মায়াঙ্ক যাদবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পাওয়েল ব্যাট দিয়ে মাঠের ওপর থাকা বলটি সজোড়ে আঘাত করেন।
অন্যদিকে, বাঁহাতি ব্যাটার শেরফান রাদারফোর্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করে আচরণবিধির ২.৮ ধারা লঙ্ঘন করেন। ইনিংসের ১৩তম ওভারে একটি বলকে অন-ফিল্ড আম্পায়ার ওয়াইড না দেওয়ায় রাদারফোর্ড আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চিৎকার করে ক্ষোভ দেখান।
ঘটনার পর দুই ক্রিকেটারই ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাটের দেওয়া অভিযোগ ও শাস্তি মেনে নেন। ফলে এ বিষয়ে আলাদা করে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। মাঠে দায়িত্ব পালনকারী আম্পায়ার জয়রামন মদনগোপাল, রোহান পন্ডিত, থার্ড আম্পায়ার নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার বীরেন্দর শর্মা এই অভিযোগটি আনেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মাসে এটি তাঁদের প্রথম অপরাধ হওয়ায় অতিরিক্ত কোনো ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়নি দুজনকে। বর্তমানে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সিরিজের এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের প্রধান দুই ব্যাটারের ওপর আইসিসির এই শাস্তির খড়্গ ক্যারিবীয় শিবিরে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে।
