ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » টেকসই নকশার বৈশ্বিক স্বীকৃতি: রিবা পুরস্কার জিতলো রংপুরের কারখানা

টেকসই নকশার বৈশ্বিক স্বীকৃতি: রিবা পুরস্কার জিতলো রংপুরের কারখানা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বিশ্ব স্থাপত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ (RIBA International Prize) অর্জন করেছে বাংলাদেশের রংপুর জেলায় অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের পরিবেশবান্ধব গ্রিনফিল্ড কারখানা। বিশ্বজুড়ে নান্দনিক ও মানবিক স্থাপত্যের চূড়ান্ত স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে এ গৌরবময় পুরস্কার ঘোষণা করে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মবান্ধব পরিবেশ, সার্বিক শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাকে অনন্য উচ্চতায় প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত এই কারখানা ভবনের স্থাপত্যশৈলীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলী। রংপুর শহরে ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটেরও বেশি আয়তনের এই সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন ভবনটিকে রিবার বিচারকেরা ‘নীরব নম্রতার নিদর্শন’ (a work of quiet modesty) বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ঐতিহ্য ও প্রকৃতির মিশেলে অনন্য নকশা

কারখানাটির সার্বিক স্থাপত্য নকশা করেছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘নকশাবিদ আর্কিটেক্টস’। বাংলার আবহমান গ্রামীণ বসতবাড়ির আঙ্গিনা ও উঠোনের ঐতিহ্যবাহী গঠনশৈলী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সাততলা বিশিষ্ট এই পরিবেশবান্ধব কারখানায় রয়েছে সবুজে ঘেরা দেয়াল, লতা-পাতায় ছাওয়া দীর্ঘ বারান্দা, অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছ পুকুরপাড়ের শান্ত হাঁটার পথ এবং দৃষ্টিনন্দন উঠান। এসব প্রাকৃতিক উপাদানের সমাহারে যান্ত্রিক শিল্পপরিবেশে যুক্ত করা হয়েছে প্রকৃতির স্নিগ্ধ স্পর্শ।

মানুষ ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত স্থাপত্য

প্রতি দুই বছর পরপর প্রদান করা এই রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে কেবল দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নয়, বরং যেসব স্থাপত্য মানুষের বাস্তব জীবন ও সমাজকল্যাণে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে সেগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি কর্মীর (যার সিংহভাগই নারী) কর্মসংস্থান ঘটানো এই কারখানায় রয়েছে আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার), সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ছায়ানিবিড় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ।

পুরস্কার ঘোষণার আগে নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার এক বিবৃতিতে আবেগঘন ভাষায় বলেন, “আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম, বিষাদময় শিল্পকারখানাও একটি প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাদায়ক স্থান হতে পারে। একটি কারখানা কখনোই এমন কোনো নির্দয় যন্ত্র হওয়া উচিত নয়, যা মানুষের ভেতরের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দেয়।”

কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের পাবলিক রিলেশন অ্যাডভাইজার মাহবুব রহমান এ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কারখানায় যেসব শ্রমজীবী মানুষ রাতদিন কাজ করেন, তাঁরাই আমাদের মূল সম্পদ। তাঁদের সুস্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা করেই আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বপ্নকে ধারণ করে এই পরিবেশবান্ধব স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছিল।”

রংপুরের মাটি ও মানুষের তৈরি এই পরিবেশবান্ধব স্থাপনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৈশ্বিক তৈরি পোশাক ও কারুপণ্য শিল্পের অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও বহুগুণ উজ্জ্বল করল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে