বিনোদন ডেস্ক:
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তার বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। সোমবার ‘ভোগ’- প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর নতুন তার স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম—দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাঁদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এত দিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিলেন এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে।
ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন, সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী। ইজের লেখা ও রেকর্ড করা গান নিয়ে স্যামের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়। ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’—যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট গেয়েছিল—থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাঁদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’
ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘দ্য টুনাইট শো স্ট্যারিং জিমি ফ্যালন’-এ ‘গোল্ডেন’ গান পরিবেশনের আগে উদ্বেগে ভুগছিলেন ইজে। পরে ওই বছরের নভেম্বরে জ্যাক সাং শোতে তিনি জানান, অনুষ্ঠানের আগে তাঁর প্যানিক অ্যাটাক হয়েছিল। সেদিন সকালে কণ্ঠও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। টানা প্রচারণার কারণে শরীর কতটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তা বুঝতে পারেননি বলে জানান গায়িকা।‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর সাফল্য ও একাধিক পুরস্কারের মনোনয়নের পর ইজের ক্যারিয়ার এখন নতুন উচ্চতায়। সেই ব্যস্ত সময়েও তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হয়ে আছেন স্যাম কিম।
সূত্র: পিপল
