গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাহাজাদী বেগম (২০) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহিন মিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।
নিহত শাহাজাদী উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা (জাদুর বাজার) এলাকার শাহিন মিয়ার মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার মেহেরাজ মিয়ার (২৫) সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শাহাজাদীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে শাহাজাদী এসব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাহাজাদী তার বাবাকে ফোন করে কান্নারত অবস্থায় জানান, বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যেতে দিচ্ছেন না। এ কথা বলার পর তিনি ফোন কেটে দেন।
এরপর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শাহাজাদীর স্বামী মেহেরাজ ফোন করে শাহিন মিয়াকে জানান, শাহাজাদী কথা বলছেন না এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে শাহিন মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, শাহাজাদীকে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয়েছে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের না জানিয়েই মরদেহ শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের বাবা শাহিন মিয়া বলেন, মেয়ের এমন মৃত্যু নিয়ে তার সন্দেহ হচ্ছে। মেয়ের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরস্পর যোগসাজশে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
